ব্রাজিলিয়ান ফুটবল জাদুকর পেলেকে নিয়ে উক্তি, মজার ঘটনা ও অন্যান্য

৩৮৭ পঠিত ... ২২:১৩, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

এদসোঁ আরাঁচ দু নাসিমেঁতু! ব্রাজিলিয়ান এক ভদ্রলোকের নাম এটি। পর্তুগিজ ভাষার নামটিকে উচ্চারণ মেনে বাংলায় লিখলে অনেকটা এমনই দেখায়। নাম দেখে ভরকে গেলেও এই ব্রাজিলিয়ানকে পুরো দুনিয়া চেনে এক নামে, সেটি হলো পেলে। তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার মনে করেন অনেকে। জন্মেছিলেন ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর ব্রাজিলের ত্রেস কোরাকোয়েসে। 

কৈশোরে যোগ দেন সান্তোসে এবং নজর কেড়ে নেন সবার। ১৬ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষেকেই করেন গোল। পরের বছর সুদূর সুইডেনে খেলতে যান বিশ্বকাপ। অভিজ্ঞ গারিঞ্চার পাশে নবাগত পেলে মিলে নিয়ে আসেন বিশ্বকাপ। এরপর বিশ্বকাপ জিতেছেন আরও দুটি। ক্যারিয়ারে ১৩৬৩ ম্যাচে করেছেন ১২৮১টি গোল। নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। পেলেকে নিয়ে এক ফুটবলার বলেছিলেন, ‘বল পায়ে কোন একটা মুহূর্তে যদি ১ লক্ষ আলাদা টাইপের মুভ করা সম্ভব হয়ে থাকে, পেলে সেখানে নিবেন ১ লক্ষ ১ নাম্বার মুভ।’ পেলেকে নিয়ে এমনসব মন্তব্য করেছেন অনেকেই। চলুন জেনে নিই পেলেকে নিয়ে এমন নানান উক্তি, মন্তব্য ও মজার ঘটনার কয়েকটি।

 

১# ১৯৫৮ সুইডেন বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলে যখন পেলেকে রাখা হয় তখন সমালোচনার ঝড় উঠেছিল চারদিক থেকে। এক মনোবিজ্ঞানী তো বলেই বসলেন, ‘পেলে এখনো অনেক অপরিণত!’ জবাবে কোচ ভিসেন্তে ফিউলা বলেছিলেন, ‘হয়তো তুমি ঠিকই বলেছ। তবে তোমরা ফুটবল একেবারেই বোঝো না। আর আমি দেখেছি পেলেকে ফুটবল খেলতে।’ 

সেই বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৩ গোল করেছিলেন ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড জ্যঁ ফন্টেইন। কিশোর পেলেকে খেলতে দেখে তার মন্তব্য ছিল, ‘যখন পেলেকে খেলতে দেখলাম, তখন আমার মনে হলো বুটজোড়া তুলে রাখি।’

 

২# ১৯৫৮ ও ‘৭০ এই দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিলেন পেলে। দুটো ম্যাচেই পেলে কতটা ভালো খেলেছিলেন, সেটি বোঝা যায় প্রতিপক্ষ ফুটবলারের বর্ণনায়-

১৯৫৮ ফাইনালে ব্রাজিল ৫-২ গোলে হারায় সুইডেনকে। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন পেলে, যার শেষটি ঠিক ৯০ মিনিটে। ফাইনালের পর সুইডিশ মিডফিল্ডার সিগা পার্লিংয়ের মন্তব্য ছিল, ‘পাঁচ নাম্বার গোলের পর, আমারও ইচ্ছা হচ্ছিল ওর জন্য উল্লাস করতে।’

১৯৭০ ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল ইতালি। ইতালিয়ান ডিফেন্ডার তার্কিসিও বোর্গনিক ছিলেন পেলের মার্কার। ৪-১ গোলে হেরে যাওয়ার পর এই ভদ্রলোক মন্তব্য করেন, ‘ম্যাচের আগে আমি নিজেকে বলছিলাম, সেও আর সবার মতোই রক্ত মাংসের একজন মানুষ! কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’

 

৩#১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা চলছে। ধারাভাষ্য দিচ্ছেন দুই সাবেক ব্রিটিশ ফুটবলার ম্যালকম অ্যালিসন ও প্যাট ক্রেরাল্ড। 

ম্যালকম অন্যজনকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কীভাবে ‘পেলে’ বানান করো?
ক্রেরাল্ডের অকপট উত্তর ছিল, খুব সহজ, ‘G-O-D’  

 

৪# ১৯৮২ সাল, সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেলে গেছেন আমেরিকা সফরে। হোয়াইট হাউসে পেলের দাওয়াত। তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। তাদের দুজনের সেটিই প্রথম সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। প্রথম দেখাতেই পেলের দিকে হাত বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলে উঠলেন, ‘আমার নাম রোনাল্ড রিগ্যান, আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। কিন্তু আপনার নিজের পরিচয় দেবার দরকার নেই, সবাই জানে পেলে কে।’

 

৫# সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? সেই প্রশ্নের উত্তরে পেলের পাশাপাশি যে আরেকটি নাম বারবার আসে, তা হচ্ছে ম্যারাডোনা। দুই গ্রেট প্লেয়ারের বাকযুদ্ধ প্রায়শই খবরে এসেছে। ম্যারাডোনা অবশ্য কখনোই পেলেকে এত উঁচুতে স্থান দেননি। বেফাঁস মন্তব্য করতে ওস্তাদ এই ফুটবলার একবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেই বসেন,  ‘তোমরা কেন পেলের সাথে আমার তুলনা করো? আমার মা বলেছে আমি বেশি শক্তিশালী এবং পেলে এমন সব খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলত যারা ঠিকমত নড়তেও পারত না।’

৩৮৭ পঠিত ... ২২:১৩, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top