ভারতীয় 'নভোচারী' চাঁদে হাঁটার পর যেভাবে রাস্তার সংস্কার হয়ে গেলো

৩৭৮ পঠিত ... ১৭:২০, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষ শেষ হেঁটেছিল সেই ১৯৭২ সালে। তারপর থেকে কেটে গেছে অনেকদিন, মানুষ যাচ্ছে না আর চাঁদে। তবে সম্প্রতি ভারতের এক আর্টিস্টকে দেখা যায় স্পেসস্যুট পরে ‘চন্দ্রপৃষ্ঠে’র মতো কোথাও হাঁটাহাঁটি করছেন। কিছুদূর ভিডিওটি দেখলে আবিষ্কার করা যায়, চাঁদের বুকে অটোরিক্সা চলছে, রাস্তায় জ্বলছে স্ট্রিট ল্যাম্প। দেখতে চন্দ্রপৃষ্ঠের মতো মনে হলেও সেটি আসলে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর একটি রাস্তা। 

বেহাল দশার রাস্তাকে চাঁদের রাস্তা বলার রেওয়াজটা বেশ পুরনোই। ১৯৬৯ সালে নিল আর্মস্ট্রং যখন প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের বুকে পা রাখলেন, তারপর পুরো পৃথিবী দেখল চন্দ্রপৃষ্ঠে স্বরূপ। তখন এই বাংলাদেশের দৈনিক ইত্তেফাকেও ঢাকার একটি রাস্তার ক্লোজ ছবি দিয়ে নিচে ক্যাপশন ছিল অনেকটা এমন ‘চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি ভেবে ভুল করবেন না। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার অমুক রাস্তার ছবি।’ এই প্রাচীন রসিকতাকে অভিনব উপায়ে ফুটিয়ে তুলেছেন ভারতীয় আর্টিস্ট বাদল নানজুন্দাস্বামী। 

বেঙ্গালুরের এই আর্টিস্ট নিজ শহরের একটি ভাঙাচোরা রাস্তায় হেঁটেছেন স্পেসস্যুট পরে। চাঁদে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কম থাকায় যেমন হাঁটতে হয় একটু ভেসে ভেসে, তেমনি করেই একটি ভাঙাচোরা রাস্তায় ধীর পায়ে স্পেসস্যুট পরে হেঁটে গেছেন তিনি। আর গত ২ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে এই ভিডিওটি পোস্ট করেন বাদল। সেখানে তিনি বেঙ্গুলুরুর মিউনিসিপ্যাল কমিশনারকেও ট্যাগ করেন। ফেসবুকে পোস্ট হবার পর থেকেই ভিডিওটি অসংখ্য মানুষ শেয়ার করতে থাকেন। ফেসবুক, ইউটিউব থেকে শুরু করে সব সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। 

এরপর যা ঘটেছে, সারাদিন নানান সংকট নিয়ে অভিযোগ করে যাওয়া বাংলাদেশিদের কাছে তা অবিশ্বাস্যই মনে হতে পারে। ২ তারিখ সন্ধ্যায় দেওয়া ভিডিওটির পর বাদল আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেন ৩ তারিখ দুপুরবেলা। ভিডিওতে দেখা যায় ঐ রাস্তাটিতেই বড় একটি ক্রেনের সাহায্যে শুরু হয়ে গেছে সংস্কারকাজ। ১ দিন না ঘুরতেই বেঙ্গালুরুর মিউনিসিপ্যাল কর্মকর্তারা এই রাস্তা সংস্কারে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটি বাস্তবায়নও শুরু করে দিয়েছেন। 

অসম্ভব প্রতিভাবান একজন শিল্পী বাদল নানজুন্দাস্বামীর জন্ম মাইশোরের এক ছোট্ট গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই বাদল আঁকাআঁকি নিয়ে আছেন। পারিবারিক স্বাচ্ছল্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পুরো খরচটা নিজেই জুগিয়েছিলেন অভিনব এক উপায়ে। বাচ্চাদের নিয়ে ছোট্ট একটা পরিত্যক্ত দোকানকে তিনি বানিয়ে ফেলেন আর্ট ওয়ার্কশপ। সেখান থেকেই পড়াশোনার খরচ চালান। মাইশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাভা একাডেমি থেকে গোল্ড মেডেল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন। এখন কাজ করছেন একটি বিজ্ঞাপনি এজেন্সিতে। পাশাপাশি করছেন অসংখ্য এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। 

আর এসব এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করতে তাঁর তেমন কোন বেগ পেতে হয় না। কারণ, বাদলের কাছে পুরো শহরটাই একটা ক্যানভাস! এর আগেও তিনি শহরের রাস্তার গর্তগুলোকে রূপ দিয়েছেন অদ্ভুত সব চিত্রকর্মে। 

৩৭৮ পঠিত ... ১৭:২০, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top