ম্যাথু হেইডেনের খোঁচার যেমন জবাব দিয়েছিলেন 'কেন উইলিয়ামসন'

৪২৯ পঠিত ... ১৯:১০, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেওয়া অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে একটা রীতির মতোই ব্যাপার। মাঠে তো স্লেজিং চলেই, তার সাথে আছে সংবাদ সম্মেলন, ধারাভাষ্য কক্ষ কিংবা পত্রিকার কলামে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে ‘খোঁচাত্মক’ কথা বলা। কখনো কখনো এসবের জবাবও এসেছে আরও দারুণভাবে। তেমনই এক মজার ঘটনা ঘটেছিল ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে ম্যাথু হেইডেনের এক মন্তব্যকে ঘিরে।

শুধু স্লেজিং নয়, অস্ট্রেলিয়া বিখ্যাত সুবিশাল সব ক্রিকেট মাঠের জন্যেও। এর মাঝে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা এমসিজি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। শুধু গ্যালারিতেই নয়, খেলার মাঠে বাউন্ডারির আয়তনও অন্যসব মাঠের তুলনায় একটু বড় থাকে। অন্যদিকে প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট মাঠগুলোর সীমানা অপেক্ষাকৃত অনেক ছোট। আর গত বিশ্বকাপে যৌথভাবে স্বাগতিক হয়েছিল এই ছোট আর বড় স্টেডিয়ামের দুই দেশ। এমনকি বিশ্বকাপ ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল।

স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড গ্রুপ পর্ব, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমি ফাইনাল সবগুলো ম্যাচই খেলেছিল নিজেদের মাটিতে। এমনকি গ্রুপ পর্বে আরেক স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটিও খেলেছিল নিজ মাটিতেই। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত ছিল মেলবোর্ন। ফাইনালের আগে পত্রিকায় এক কলামে সাবেক অজি ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেন একটি কলাম লিখেছিলেন। সেখানে তার বক্তব্য ছিল, ফাইনালে কিউইদের পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভালোই হয়েছে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে নিউজিল্যান্ড নিজেদের ছোট মাঠে বেশ আরাম করেই খেলেছে।’ বড় মাঠে ছক্কা মারাটা কঠিন এমন ইঙ্গিত করে বলেন, ‘মেলবোর্নের মতো বড় মাঠে ওভাবে বল হিট করলে পুরো মাঠ পার হবার আগেই ক্যাচ হয়ে যাবে।’ টুর্নামেন্টজুড়ে রান এবং ছক্কার পাহাড় গড়া কিউইরা কথাটিকে নিশ্চয়ই খুব স্বাভাবিকভাবে নেননি। যার প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল টুইটারে।

২৯ মার্চের ফাইনাল খেতে কিউই দল তখন অস্ট্রেলিয়ায়। ২৬ মার্চ সকালবেলা কেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন একটি টুইট করেন ‘এমসিজি ইস সো বিগ’ হ্যাশট্যাগে। টুইটে বলেন, পিচ দেখতে আমরা গতকাল হাঁটা শুরু করেছি, এখনো পৌঁছাতে পারিনি।

আরও ঘন্টাখানেক পর আরেকটি টুইটে বলেন, ‘পিচ দেখার অভিযান চলছেই। আমি আশা হারিয়ে ফেলছি। স্টাম্প পর্যন্ত দেখতে পারছি না। অথচ রসদ ফুরিয়ে আসছে।’ আরও আধা ঘন্টা পর আরেকটি টুইট, ‘গত ২৪ ঘন্টা ধরে কিছু খাইনি। কোরি (অ্যান্ডারসন) খাওয়ার জন্য ডেস্পারেট হয়ে আছে।’ আরও কিছুক্ষণ পরে আরেকটি টুইট, ‘টিম (সাউদি) পাগল হয়ে গেছে। সে নিজেকে একটা গরু ভাবা শুরু করেছে। হাম্বা হাম্বা করে ডাকছে আর খাস খাচ্ছে। এর আগে কখনো নিজের প্রতিচ্ছবি না দেখে এতো দীর্ঘসময় কাটায়নি।’

আরও আধ ঘন্টা পর আরেক টুইটে নিজেদের মিশন বাতিল করার ঘোষণা দেন। ‘মিশন বাতিল। কখনোই পিচে পৌঁছাতে পারব না। ড্যানের (ভেটোরি) চশমা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করছি।’

এর ঘন্টাখানেক পর শেষ টুইটে জানা যায়, ‘একটি প্লেন আমাদের সিগন্যাল খুঁজে পেয়েছে। সভ্যতায় ফিরে যাচ্ছি। সবার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।’

অবশ্য ভাবতে যাবেন না, ফাইনালের আগে প্র্যাকটিস ফেলে সত্যি সত্যিই কিউই ক্যাপ্টেন টুইটারে এতো সময় দিয়েছেন। পুরোটাই হয়েছিল কেন উইলিয়ামসনের নামে খোলা একটি ফেক একাউন্ট থেকে। তবে ফেক একাউন্ট থেকে যদি এমন কিছু হয়, তবে মন্দ কী? কেন উইলিয়ামসন নামের এই ফেক একাউন্টটি থেকে এখনো ক্রিকেট বিষয়ক নানান রসিকতা করা হয়। 

৪২৯ পঠিত ... ১৯:১০, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top