স্ট্যান লি'র জীবন থেকে ৯টি ফ্যাক্ট

৯৬৮ পঠিত ... ১৬:১২, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

আয়রন ম্যান, স্পাইডারম্যান, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ, প্রফেসর এক্স, ফ্যান্টাস্টিক ফোর... নাম বলতে থাকলে শেষ হবে না। এমন অসংখ্য জনপ্রিয় কমিক চরিত্রের স্রষ্টা স্ট্যান লি। জন্মেছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপর ১৯২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর। গ্রেট ডিপ্রেশনের অসহনীয় সময়ে কাটিয়েছেন শৈশব, কৈশোর। নানা চরাই উৎরাই পেরিয়ে একটা সময় আঁকাআঁকি বেছে নিলেন পেশা হিসেবে। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক অসাধারণ সব সুপারহিরো চরিত্রের সৃষ্টি করে একটা দুনিয়াই বানিয়ে ফেললেন। নাম হয়ে গেল 'মারভেল ইউনিভার্স'! ব্যক্তি জীবনে অসাধারণ এই মানুষটির নিজের সুপার পাওয়ার ছিল 'ভালোবাসা'। 

এই অসাধারণ স্রষ্টা পৃথিবীকে বিদায় জানালেন ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর। ৯৫ বছরের এই দীর্ঘ জীবনের কিছু ফ্যাক্ট, মজার ঘটনা আজ থাকছে eআরকির পাঠকদের জন্য। 

১# ধূসর হাল্ক!

‘হাল্ক’-এর প্রথম সংখ্যায় ডক্টর জেকিল এবং মিস্টার হাইডের চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত চরিত্র হাল্কের গায়ের রঙ ছিল ধূসর। কিন্তু সেই ১৯৬২ সালে কমিক বইতে হাল্কের এই ধূসর রঙ দিতে যেয়ে প্রিন্টারের বেশ হ্যাপা পোহাতে হচ্ছিল। প্রিন্টারের সক্ষমতার অভাবে স্ট্যান লি তখন হাল্ক চরিত্রটিকে সবুজ করে দিলেন। ব্যস, দ্বিতীয় সংখ্যা থেকে হাল্ক হয়ে গেল আমাদের চেনা পরিচিত সবুজ দানব। এমনটা না হলে, এডওয়ার্ড নর্টনকে ধূসর হাল্কের বেশে দেখতে খুব বেশি কি ভালো দেখাত?

২# ক্যামিওতে স্ট্যান লি
পর্দায় স্ট্যান লি’কে নিয়মিতই দেখা গেছে তার ডকু সিরিজ ‘স্ট্যান লি’জ সুপারহিউম্যান’ অনুষ্ঠানে। আমাদের দেশে ডিসকভারি চ্যানেলেই আমরা তাকে দেখেছি এই অনুষ্ঠানে পৃথিবী ঘুরে ঘুরে অমানসিক ক্ষমতাধর মানুষদের সাথে পুরো পৃথিবীর পরিচয় করিয়ে দিতে। অবশ্য স্ট্যান লি’কে সিনেমাতেও দেখা গেছে অনেকবার। সেই ১৯৮৯ সালে ‘দ্য ট্রায়াল অফ দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক’ সিনেমায় তিনি কোর্টরুম দৃশ্যে ছিলেন। ছিলেন টবি ম্যাগুইরের স্পাইডারম্যান সিনেমাতেও। তাকে দেখা গিয়েছিল ‘আয়রন ম্যান’ সিনেমায় টনি স্টার্কের সাথে রসিকতা করতে। ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর: দ্য রাইজ অফ দ্য সিলভার সার্ফার’ সিনেমায় স্ট্যান লি আর তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী জ্যাক কার্বি নিজ পরিচয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘ওয়েডিং ক্র্যাশার’ হয়ে ঢুকতে গিয়েও পারেননি। এছাড়াও তিনি স্পাইডারম্যান কার্টুনেও স্বনামেই এসেছেন পর্দায়।

 

৩# শোকবার্তায় ‘ডিপ্রেশন’

স্পাইডারম্যান, হাল্ক, গ্রুট কিংবা ডক্টর স্ট্রেঞ্জ সৃষ্টির অনেক আগে স্ট্যান লি জীবিকার জন্য শুধুই লিখতেন, কোন আঁকাআঁকি করার সুযোগ ছিল না। নিউ ইয়র্কের একটি পত্রিকায় তিনি তারকাদের মৃত্যুর খবর, শোকবার্তা এসব লিখে দিতেন। কিন্তু কাজটা তার ছেড়ে দিতে হলো কারণ, পুরো ব্যাপারটি তাকে খুব বেশি ‘ডিপ্রেসড’ করে দিচ্ছিল!

 

৪# টনি স্টার্ককে তো সবার ঘৃণা করার কথা

১৯৬৩ সালে যখন প্রথম কমিকস হিসেবে আয়রন ম্যান প্রকাশিত হল, তখন আমেরিকা আর রাশিয়ার মাঝে চলছে কোল্ড ওয়ার। শীতল এই যুদ্ধের অসহনীয় সময়ে এমনিতেই আমেরিকান জনগণ যুদ্ধ, অস্ত্র, নিউক্লিয়ার বোমা এসব নিয়ে অসহনীয় মানসিক অবস্থায় ছিলেন। ফলে এমন এক কমিক চরিত্র যে কি না বিলিওনিয়ার, অস্ত্র নির্মাতা, ব্যবসায়ী; তাকে তো সবারই অপছন্দ করার কথা। এমনটাই ভেবেছিলেন স্ট্যান লি। কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারণে টনি স্টার্ক হয়ে ওঠে ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় কমিক চরিত্র।

 

 

৫# মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ!
স্ট্যান লি কখনোই মনে করতেন না, কমিক শুধুমাত্র বাচ্চাদের জন্য। কিশোর তরুণ এমনকি আরও বয়স্ক লোকজনের জন্যও কমিকস। ১৯৭১ সালে যখন মারভেল এবং স্ট্যান লি’র কমিকস চরিত্রগুলো বেশ জনপ্রিয় তখন আমেরিকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সেবা অধিদপ্তর তাকে অনুরোধ করে কমিকস বইয়ের মাধ্যমে মাদকবিরোধী জনমতে সাহায্য করতে। স্ট্যান লি ব্যাপারটিকে গুরুত্বের সাথে নেন এবং পরবর্তীতে ‘স্পাইডারম্যান’ কমিকস বইয়ে দেখা যায় পিটার পার্কারের বন্ধু হ্যারি ব্রেকআপের পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।

 

৬# স্ট্যান লি’র আসল নাম!

পুরো পৃথিবী তাকে স্ট্যান লি নামে চিনলেও ১৯২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়ার পর তার নাম হয়েছিল স্ট্যানলি মার্টিন লেইবার। কমিক আঁকাআঁকির শুরুতে তিনি ছদ্মনাম হিসেবে ‘স্ট্যান লি’ নামটি নেন। তখন তিনি ভেবেছিলেন অপেক্ষাকৃত অগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তিনি এই নামেই প্রকাশ করবেন। আসল নামটি তুলে রেখেছিলেন পরবর্তী জীবনে যখন ‘ভালো ভালো’ সব উপন্যাস লিখবেন তার জন্য। অবশ্য এই দিন কখনোই সেভাবে আসেনি। তার ‘অগুরুত্বপূর্ণ’ কাজই তাকে স্ট্যান লি নামেই পুরো দুনিয়ায় চিনিয়ে দিয়েছে।

 

৭# সত্যিকারের হিরো
অসংখ্য সুপারহিরোর স্রষ্টা স্ট্যান লি নিজেও কিন্তু একজন হিরো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মধ্যগগনে জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করলে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে না হলেও আর্মির সিগন্যাল কর্পসে তার কাজ ছিল পোস্টার ডিজাইন করা এবং সৈনিকদের জন্য নানা কিছু লিখে দেওয়া। ৯ জনের একটি দলের সদস্য হয়ে তিনি আর্মির জন্য বিভিন্ন প্রচারণা এবং ট্রেনিং ফিল্মের জন্য নাট্যরূপও দিতেন। স্ট্যান লি’র ৮ সহকর্মীর মাঝে ছিলেন পরবর্তীতে পুলিতজার প্রাইজ পাওয়া লেখক উইলিয়াম স্যারোয়ান, ‘দ্য অ্যাডামস ফ্যামিলি’র স্রষ্টা কার্টুনিস্ট চার্লস অ্যাডামস, ইট’স এ ওয়ান্ডারফুল লাইফ মুভির পরিচালক ফ্যাঙ্ক ক্যাপ্রা এবং বিশ্বখ্যাত নির্মাতা, কার্টুনিস্ট, লেখক থিওডর গেইসেল যাকে কি না সবাই ডক্টর সিউস নামেই চেনে।

 

৮# 'দাতা' স্ট্যান লি 

চমৎকার সব সুপারহিরো কমিক ক্যারেকটার সৃষ্টি করে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের শৈশব, কৈশোর রাঙিয়ে দিয়েছেন স্ট্যান লি। শুধুমাত্র এই কারণেই তাকে মনে রাখা যাবে অনেক অনেক দিন। কিন্তু স্ট্যান লি মানুষ হিসেবেও চমৎকার মনের। তিনি গঠন করেছেন দাতব্য সংগঠন ‘স্ট্যান লি ফাউন্ডেশন’। শিল্প, সাহিত্য আর শিক্ষায় উন্নয়নের জন্য তার এই সংগঠন কাজ করে চলেছে। অবশ্য এর অনেক আগে থেকেই তিনি ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াইওমিং-এ প্রচুর অনুদান দিয়ে আসছেন।

 

৯# স্ত্রীর রাগ!
স্ট্যান লি আর তার স্ত্রী জোয়ান বুকক লি তাদের দাম্পত্য জীবনে এক সঙ্গে কাটিয়েছেন দীর্ঘ সাত দশক। আর সব দম্পতির মতো তাদের মধ্যেও ঝগড়াঝাটি নিশ্চয়ই হতো। একবার এক উত্তপ্ত কথোপকথনের মাঝে তার জোয়ান তার স্বামীর পুরনো টাইপ রাইটার ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে স্ট্যান লি’র ভাষ্যে ঘটনাটা ছিল এমন ‘এটা ঘটেছিল ইবে আসার অনেক আগে। টাইপ রাইটারের ভাঙা অংশগুলো থাকলে নিশ্চয়ই এটা নিলামে তুলে অনেক টাকা পয়সা কামিয়ে ফেলতাম।’

রসিকতা করলেও খুব একটা ভুল বলেননি। এই টাইপ রাইটার দিয়েই স্পাইডারম্যান, আয়রনম্যান সহ আরও অসংখ্য সব জনপ্রিয় কমিকসের প্রথম দিকের সংখ্যাগুলো লিখেছিলেন তিনি। এমন একটা জিনিসের এন্টিক মূল্য নিতান্ত কম হবার কথা না।

 

৯৬৮ পঠিত ... ১৬:১২, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top