আমিই বাংলার প্রথম ইংল্যান্ড সাপোর্টার : মীরজাফর

৩৭৫৮ পঠিত ... ১৬:২১, জুন ১০, ২০১৭

বাংলার ইতিহাসে মীরজাফর এক স্মরণীয় নাম। বাংলা বিহার উড়িষ্যার এমন কোন মানুষ নেই, যে কিনা কোনোদিন কাউকে মীরজাফর বলে গালি দেননি। বিশ্বাসঘাতকতার অপর নাম হয়ে ওঠা মীরজাফর পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের হয়ে কাজ করেছিলেন, ছিলেন ইংরেজ সমর্থক, যেই পলাশীর যুদ্ধে হারের মাশুল আমরা দিয়েছি দুইশ বছর তাদের অধীনে থাকার মাধ্যমে। কিন্তু কেন তিনি ইংরেজ সমর্থক ছিলেন, তা এতদিনেও কেউ জানে না। আজ পুরো দেশ যখন ইংল্যান্ডের সাপোর্ট করছে, তখন সেই ইংল্যান্ডের সাপোর্টার প্রথম বাঙালির সঙ্গে কথা বলতে eআরকি প্রতিবেদক ছুটে যান ব্রিটিশ আমলে, জেনে আসেন এই বিষয়ে তার অনুভূতি।  

         

eআরকি: কী অবস্থা মীরজাফর ভাই?

মীরজাফর: খামোওওওওওওশ! এত বড় হিম্মত? গালি দেন? আপনার লগে আমি কী মীরজাফরগিরি করছি?

: গুস্তাখি মাফ করবেন মীরজাফর সাহেব, গালি দিলাম কই? আপনার নাম ধরেই তো ডাকলাম আপনাক…

: ও আচ্ছা, স্যরি রে ভাই। আসলে মানুষজন মীরজাফর নামটারেই এমনে পঁচায় ফেলছে, মীরজাফর শুনলে আগে মনে আসে সেটা একটা গালি, পরে মনে আসে এটা আমার নাম!

: তারপর কী অবস্থা বলেন?

: অবস্থা আর কি, আপনারা ভাল থাকতে দিছেন কই? প্রতারক প্রতারক শুনতে শুনতে জীবনটা শেষ, একটা প্রেম করতাম, কিন্তু আপনারা আমাকে মীরজাফর বানিয় দেওয়ার পর থেকে আমার প্রেমিকাও বলে, ‘তোমার সাথে আর প্রেম করব না, তোমারে আমি বিশ্বাস করি না, শ্লা মীরজাফর’। জিজ্ঞেস করলাম কেন বিশ্বাস করো না, সে উত্তর দেয়, ‘কারণ তুমি একটা মীরজাফর’। আপনিই বলেন, এ কেমন বিচার?

: তা সময় কাটে কীভাবে আপনার আজকাল?

: কিছুই করার পাই না, মাঝে কাশেম বিন আবুবাকার সাহেবের উপন্যাসগুলা পড়ছিলাম, ইদানিং সেগুলোও আর আমাকে টানছে না। এই কয়েকদিন হলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দেখে সময় কাটাচ্ছি। অবশ্য মানুষ নানারকম কথা বলে, আমি নাকি ম্যাচ ফিক্সিং বেটিং এসবের ধান্দা শুরু করছি। এগুলো মিথ্যা। 

: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দেখে সময় কাটাইতেছেন? বাহ! বেশ তো, কার সাপোর্টার আপনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে?

: আপনারা আমাকে ভাবেন কী? অবশ্যই আমি বাংলাদেশের সাপোর্টার।

: বাংলাদেশের সাপোর্টার মানে? আপনি তো একজন লিজেন্ডারি ইংল্যান্ড সাপোর্টার! আপনি ইংল্যান্ড সাপোর্ট না করলে কেমনে কী!

: খামোশ! এই যে একটা সিরাজ বেকুবের মত কথা বললা। তুমি... ইয়ে, আপনি করে বলতেছিলাম তো, না? আপনি কী বুঝবেন এসবের? ওই সময় যে ইংল্যান্ড সাপোর্ট করছিলাম কেন, তা তো আমি জানি...

: আমি আসলে সেটাই জানতে চাচ্ছি। আজ পুরো দেশ ইংল্যান্ড সাপোর্ট করছে, অথচ আপনি সেই আড়াইশ বছর আগেই কেন করেছিলেন?

: হ্যাঁ সেটাই, আপনার দাদার দাদার দাদাও বুঝে নাই বোধহয়। সিরাজও বোঝে নাই। ওর না বোঝাই স্বাভাবিক। ওর্থলেস একটা লোক। সারাদিন মেসেঞ্জারে প্রেমিকার সাথে চ্যাট করত, ও নাকি সম্রাট, ইহ!

এই পর্যায়ে মীর জাফর সাহেব কার সঙ্গে যেন ফোনে গোপন আঁতাত করলেন। তারপর আবার ফিরলেন কথোপকথনে-

: শোনেন, জ্ঞানী মানুষের প্রেডিকশন ক্ষমতা ভালো থাকে। আমি তো আর সিরাজের মত পশ ফ্যামিলির ছেলে না যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ছাড়া কথা বলি না! আমি সেই সময় থেকেই ক্রিকেট ফ্যান, এক সময় ইংল্যান্ডের হয়ে অ্যাশেজ খেলারও ইচ্ছা ছিল। যাই হোক, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যে একদিন সবাই ইংল্যান্ডের সাপোর্ট নেবে, তা আমি আগেই জানতাম। আজকে সিরাজরে দেখলাম সেও স্ট্যাটাস দিছে, ইংল্যান্ডের সাপোর্ট করছে। আরে ব্যাটা তা-ই যখন করলি তাইলে আমার কথা শুনতে কী হইছিল তখন...

: ও, ইয়ে, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন?

: সম্পর্ক আর ভাল থাকে কীভাবে। এতদিন ভাল ছিল না। কিন্তু কালকে বাংলাদেশ নিউজল্যান্ডের সাথে জেতার পর সিরাজ নিজে রুমে আইসা কোলাকুলি কইরা বলল, ‘মীরজাফর, ভাই আমার, আমারে মাফ কইরা দাও তুমি, আমি এতদিন বুঝছি তুমি কেন ইংল্যান্ডের সাপোর্টার ছিলা পলাশীর যুদ্ধে, এই বাংলা বিহার উড়িষ্যার হয়ে আমি ক্ষমা চাই ভাই...’

: তাহলে এ কারণেই আপনি ইংল্যান্ডের সাপোর্টার ছিলেন? আপনি তো তবে অনেক দূরদর্শী!

: আরও কিছু ডিটেইল দেই, আরও ভালো বুঝবা... পলাশীর যুদ্ধের সময় সিরাজের রুমে গেলাম, দেখি ইউটিউবে আল্লাহ মেহেরবানের ভিডিও দেখছে সে। তাকে গিয়ে বললাম, জাঁহাপনা, দেখেন এখন তো ক্রিকেট ফিকেট খেলা নাই, একদিন এইসব হবে, বাংলা ঐখানে খেলবে, ইংল্যান্ডের সাথে গ্যাঞ্জামে যাইয়া লাভ কী? এর থেকে আসেন তাদের সাথে মিউচুয়ালে যাই। কিন্তু সিরাজ ভাই আমার কথা শুনলেন না। তিনি শুনলেন ওই নুসরাত ফারিয়ার কথা! আল্লাহ মেহেরবানের নায়িকার দিক থেইকা চোখ না সরায় আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে, ভুল বুঝেছে। আমি না হয় বাংলাদেশের দুই একটা কথা ইংল্যান্ডরে জানাইছিই। তবে আমি জানতাম জাতি একদিন আলোর পথে আসবে। সেই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম, ১৭৫৭ সালে বাঙালি বুঝে নাই, ২০১৭ সালে বুঝল... যাই হোক, বেটার লেট দেন নেভার।

: শেষ প্রশ্ন, আপনার কী মনে হয়? ইংল্যান্ড জিতবে?

: আমি ইংল্যান্ড জেতার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। অস্ট্রেলিয়ারে আমার কখনোই পছন্দ ছিল না। এখনও নাই। আমি মনে প্রাণে একজন ব্রিটিশ। তবে এই মুহুর্তে ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ান একটা মীরজাফর দরকার, কেউ যদি অস্ট্রেলিয়া দলের গোপন কোন খবর ইংল্যান্ডকে দিতে পারে, তাইলে তো খাপে খাপ ময়নার বাপ! আমি নিজেই ফোনে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্টের একজনের সঙ্গে কথা বলছি, দেখি কী হয়! কনভিন্স হয়ে যাইতে পারে, আরে রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ কতজনরে কনভিন্স করলাম...

এই পর্যন্ত বলার পর তিনি আবারও ফোনে একজন অস্ট্রেলিয়ানের সঙ্গে গোপন আঁতাতে লিপ্ত হন...

৩৭৫৮ পঠিত ... ১৬:২১, জুন ১০, ২০১৭

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top