ব্যাকবেঞ্চার হওয়ার যত সুবিধা

৫৬৭ পঠিত ... ১৭:১৩, আগস্ট ২১, ২০২২

Backbencher

ব্যাকবেঞ্চার হচ্ছে লেবুর শরবত কিংবা ট্যাঙের নিচে জমা থাকা চিনির মতো । চিনি না গুলালে যেমন শরবতের স্বাদ পাওয়া যায় না, ব্যাকবেঞ্চারও ক্লাসে না থাকলে ক্লাসের আনন্দ টের পাওয়া যায় না । কিছু কিছু ফার্স্টবেঞ্চারদের ভাব দেখে ব্যাকবেঞ্চার হওয়া খুব সহজ মনে হলেও নিয়মিত ব্যাকবেঞ্চার হওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। এরজন্যও নিয়মিত সাধনা করতে হয়। চলুন আজ ব্যাকবেঞ্চার হওয়ার ১০১টি সুবিধার মধ্যে বেশ কয়েকটি সুবিধা সম্পর্কে জেনে আসি।

# ব্যাকবেঞ্চার হবার প্রথম সুবিধা হলো আনলিমিটেড অ্যাটেনশন। ক্লাসমেট, প্রফেসর কিংবা র‍্যানডম মানুষ, ক্লাসে যে-ই আসুক, প্রথম বেঞ্চে কে বসেছে তা খেয়াল না করলেও লাস্ট বেঞ্চে কে বসেছে তা অবশ্যই খেয়াল করবেন। আপনি যদি স্যারদের সাথে বেশি পরিচিত হতে চান অবশ্যই লাস্ট বেঞ্চে বসুন।

# লাস্ট বেঞ্চ থেকে পাওয়া যায় পুরো ক্লাসরুমের অসাধারণ ভিউ । অসংখ্য মাথা, লাইট, ফ্যান, জানালা—কী নেই সেখানে! এই ভিউ থেকে আপনি যতটা আরাম পাবেন, সামনে বসে কখনোই একই জিনিস অনুভব করতে পারবেন। সামনের বেঞ্চে বসা জুম করে দেখা ছবির মতই। অরিজিনাল এবং সম্পূর্ণ ছবির স্বাদ এখানে পাওয়া যায় না।

# ব্যাকবেঞ্চাররা ফার্স্টবেঞ্চারের তুলনায় অনেক বেশি প্রোডাক্টিভ এবং ক্রিয়েটিভ। ক্লাসের পাশাপাশি বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ থাকায় অন্য সব দিয়ে সে একজন দক্ষ মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে।

# ব্যাকবেঞ্চারদের কোনো লিমিটেড ভিশন নেই। পৃথিবীর যা ইচ্ছা তাই পেছনে বসে দেখতে পারে। এদিকে একজন ফার্স্টবেঞ্চার স্যারের চেহারা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পারে না।

# ব্যাকবেঞ্চাররা হলো রিয়েল চ্যাম্পস। কারণ পড়ালেখায় মনোযোগ দেওয়া ছাড়াও তারা লাস্ট বেঞ্চে বসে খাওয়া, ঘুম, ছবি আঁকা, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সবকিছুতেই অংশগ্রহণ করতে পারে।

# ইন্ডিপেন্ডেন্ট লার্নার হওয়ায় এদেরকে জোর করে আপনি পড়াতে পারবেন না। তারা যদি পড়া না বুঝতে পারে, সেদিকে আর সময় ব্যয় না করে অন্যদিকে মনোযোগ দিবে। সময়ের সদ্ব্যবহার কেউ করে থাকলে তা একমাত্র ব্যাকবেঞ্চাররাই করে থাকে।

# ব্যাকবেঞ্চাররা পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট, সারপ্রাইজ টেস্ট, হোমওয়ার্ক কোনো কিছু নিয়েই চিন্তিত নয়। কারণ তারা জন্মগতভাবেই মেধাবী এবং ব্যাকবেঞ্চার৷ এক ভুয়া গবেষণা মতে, যারা নিয়মিত লাস্ট বেঞ্চে বসেন তাদের ব্রেইন নিয়মিত ফার্স্ট বেঞ্চে বসা ছাত্রদের ব্রেইনের চেয়ে ১৫.৭% বেশি অ্যাক্টিভ হয়। এছাড়া সবকিছু নিয়ে চিন্তামুক্ত থাকায় হাইপারটেনশন, অ্যাংক্সাইটি, মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারসহ নানা রোগশোকে ব্যাকবেঞ্চাররা কম ভোগে।  

# ব্যাকবেঞ্চাররা ক্লাসে মাননীয় স্পিকারের ভূমিকা পালন করে থাকে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে কথা যা বলার ব্যাক বেঞ্চাররাই পেছন থেকে বলে। যেমন —স্যার ক্লাস শেষ করেন, ক্ষুধা লাগছে, গরম লাগছে জাতীয় কমপ্লেইন ব্যাকবেঞ্চার ছাড়া আর কেউ কর‍তে পারে না। এক্ষেত্রেও তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করতেই হবে। এর পাশাপাশি স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হিসেবেও বাড়ছে ব্যাকবেঞ্চারদের চাহিদা।

# ব্যাকবেঞ্চারদের যে এক্সট্রাঅর্ডিনারি জিনিসের কথা অবশ্যই বলতে হবে তা হচ্ছে জ্ঞান। সমবয়সী ৮-১০ জন ফার্স্টবেঞ্চারের চেয়ে জ্ঞানে এগিয়ে থাকে ব্যাকবেঞ্চাররা। তাদের জ্ঞান শুধু পাঠ্যবইয়েই আবদ্ধ নয়, বরং গ্লোবাল ওয়ার্মিং, রাজনীতি, সামাজিক সমস্যা সব জায়গায়ই তাদের অবাধ বিচরণ লক্ষণীয়। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ব্যাকবেঞ্চারই মনে মনে একজন এক্সট্রিম ডিবেটার।

৫৬৭ পঠিত ... ১৭:১৩, আগস্ট ২১, ২০২২

Top