করোনা আক্রান্ত আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তিকে যে ১০টি উপায়ে 'টেক কেয়ার' করবেন

৪২৭ পঠিত ... ২২:২৮, জুন ১৭, ২০২০

বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকায় করোনার সংক্রমণ এই মুহূর্তে রয়েছে টপ পর্যায়ে! করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা হয়ে সেরে উঠেছেন, এমন পরিচিত বাঁ আত্মীয় কেউ না কেউ আমাদের সবারই এখন আছে বলা যেতে পারে। রোগ আক্রান্তকে সবাই কেয়ার করার চেষ্টা করবে, যত্ন নিতে চাইবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে আক্রান্ত রোগীর পরিচিত কিংবা আত্মীয়দের অনেকে অত্যন্ত অদ্ভূত কিছু উপায়ে সেই 'কেয়ার'খানি করে থাকেন। জেনে নিন সেসব উপায়, এবং প্লিজ, ডোন্ট ট্রাই দিস উইথ এনি করোনা-রোগী!


১# রোগীর ভাই-বোন, স্ত্রী-স্বামী কারো কাছে না, ডাইরেক্ট রোগীকেই ফোন করবেন। এক-দুই ঘণ্টা যাবার আগে ফোন রাখবেনই না। প্রতিদিন ফোন করবেন। আত্মীয়-স্বজন যারা জানে না তাদেরকেও জানিয়ে বলবেন ফোন করতে। করোনার এই সময়ে সরাসরি না হলেও, ফোনে পাশে থাকা আপনার কর্তব্য।

২# এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আপনার চেনা কতজন মারা গেছে সেটা রোগীকে অবশ্যই জানাবেন।

৩# রোগী আক্রান্ত হলে সবার আগে এই খবর আপনি না পেলে রোগীর বাসার লোকদের ফোন করে কঠিন ঝাড়ি দিন। অসুখ হচ্ছে, অথচ ফোন করে সাথে সাথেই গুষ্টিসুদ্ধো সবাইকে জানাচ্ছে না, ইআরকি নাকি?

৪# হাতের কাছে অনলাইন ঘেঁটেঘুঁটে যা মোটিভেশনাল স্পিচ পাওয়া যায়, সবগুলোর লিংক রোগীর কাছে পাঠাবেন। এবং পাঠাতেই থাকবেন। আপনি নিশ্চয়ই জানেন- মনের ডাক্তারই বড় ডাক্তার। রোগীর মনের চিকিৎসার ভার আপনার কাঁধে তুলে নিন।

৫# রোগী নিশ্চয়ই কোনো ডাক্তারের পরামর্শ নিচ্ছে। অবিলম্বে তাঁকে ফোন করে বলুন সেই ডাক্তার বাদ দিয়ে আপনার চেনা ডাক্তার দেখাতে। আপনার ডাক্তারই যে সেরা, এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ আছে নাকি?

৬# রোগ সম্পর্কে আগে ফেসবুকে দুয়েকটা পোস্ট পড়ুন। বেশি পড়বেন না, তাহলে গুলিয়ে যেতে পারে। তারপর ফোন দিয়ে রোগীকে আপনার বিশেষজ্ঞ বক্তব্য দিন। আপনার দেয়া ওষুধ এক্ষনই শুরু না করলে রোগী মরবে নিশ্চিত।

৭# খুব সিরিয়াস রোগীর ক্ষেত্রে 'দুই দিনের খেলাধুলা। আসল কাল তো হলো পরকাল' -এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তুলুন।

৮# দরিদ্র রোগী হলে মুখে হাই তুলে 'এইখানে কি আর চিকিৎসা হয়? চিকিৎসার জন্য যাবইতে হয় সিঙ্গাপুর। তোমাদের তো আর সেই সুযোগ নাই' বলবেন। আত্মীয় সমাজে আপনার সম্পর্কে উচ্চ ধারণা জন্মাবে।

৯# অতি সচেতন আত্মীয় হিসেবে রোগাক্রান্ত হবার লক্ষণ শোনামাত্র কবরের রেট, গোর খোদকের চার্জ, কুলখানির ডেকোরেটর ফি বাবদ ফুল প্যাকেজের হিসাব রোগীর আত্মীয় স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দিন। মরে যাবার পর এতো খোঁজ-খবর নেয়ার আর সময় পাবে কই তারা?

১০# অতি বড়লোক রোগীর ক্ষেত্রে ফোন প্রথমে রোগীকে না, চার্টার্ড প্লেনের এজেন্সিকে দিন। তারপর দুই পক্ষের যোগাযোগ করিয়ে মাঝখান দিয়ে কিছু কমিশন বাগিয়ে নিন। খারাপের মাঝেও ভালো কিছুর সন্ধান নিজেকেই বের করে নিতে হয়।

৪২৭ পঠিত ... ২২:২৮, জুন ১৭, ২০২০

Top