বিদ্যুৎ অফিস আরও যে ৮টি পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ বিল হিসাব করতে পারে

২৪৮ পঠিত ... ২২:০৯, জুন ১৬, ২০২০

করোনাভাইরাস মহামারীতে বিদ্যুৎ বিলের জন্য বাসায় বাসায় গিয়ে মিটার রিডিং করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে তারা বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করছে খুবই আধুনিক একটি পদ্ধতিতে- 'অনুমান'। সমস্যা বেঁধেছে এখানেই। তাদের অনুমান করা বিল 'আনুমানিক' না হয়ে হয়ে যাচ্ছে 'কাল্পনিক'। বেশিরভাগ গ্রাহকের বিলই তুলনামূলকভাবে এত বেশি আসছে যে, কিছু কিছু গ্রাহক বিল দেখে মূর্ছাও যাচ্ছেন। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, বেশি আসা বিল পরে অ্যাডজাস্ট করে নেয়া হবে। কিন্তু তা তো করা হবে পরে। তার আগে এই ভয়াবহ অস্বাভাবিক অংকের টাকা তো ঠিকই দিতে হবে! আর এতে বিদ্যুৎ বিভাগেরও দ্বিতীয়বার বিল নিয়ে কাজ টাজ করার ঝামেলাও রয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এমন নানাবিধ সমস্যার কথা বিবেচনা করেই eআরকির গোস্ট আইডিয়াবাজরা বিদ্যুৎ বিভাগকে বাসায় যাওয়া ছাড়াই মিটার রিডিং এর ৮টি কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে জানাচ্ছেন।

১# মিটারের রিডিং নিতে গোস্ট রাইটারের মতো গোস্ট রিডার রাখতে পারে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই করোনার মধ্যে যারা চাকরি হারিয়েছেন বা ছাটাই হয়েছেন, তারা চুক্তিভিত্তিকভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নিয়ে আসবে।

২# কিছু আধ্যাত্মিক সাধু বা জ্যোতিষী নিয়োগ দিতে পারে, যারা দিব্যদৃষ্টি দিয়ে অনেক কিছু দেখতে পান। ঘরে বসে একটু তন্ত্রমন্ত্র বা সম্মোহনী শক্তি প্রয়োগ করেই তারা গ্রাহকের মিটারের সঠিক রিডিং দেখতে পারবেন।

৩# গ্রাহকদের ফোন নাম্বারের শেষ তিন ডিজিট বা চার ডিজিটকে গ্রাহকের বিল ধরে নেয়া যেতে পারে। এতে কষ্ট করে মিটার রিডিং করতেও যেতে হবে না। কাউকে নিয়োগও দিতে হবে না। পরে তো আবার এডজাস্ট করে নেয়ার কাজ করতেই হবে, একরকম বিল করলেই তো হইল!

৪# অনেকেরই করোনার জন্য টিউশনি নেই। ঐকিক নিয়ম ও গড়ের অংক ভালো পারে; এমন কিছু মেধাবী অংক প্রাইভেট টিউটরকে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। যেহেতু বিদ্যুৎ বিভাগে এই ধরনের অংক ভালো পারার মতো কেউ নাই, সেহতু নিয়োগ দেয়ারা হিসেব করে আনুমানিক একটা গ্রহণযোগ্য বিল বের করবে। কিছু অংক উনাদের ফ্রিতে শিখিয়েও আসতে পারবে।

৫# সিএনজিওয়ালাদের স্ট্র‍্যাটেজি কাজে লাগানো যেতে পারে। মিটার ছাড়া জাস্ট প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকের সাথে কন্ট্যাক করে নেবে। দরকার হইলে বিশ টাকা বাড়ায়েও নিতে পারেন উনারা সিএনজিওয়ালাদের মতো...

৬# প্রতিটি লাইটের জন্য ১০০ টাকা, ফ্যানের জন্য ৩০০ টাকা; এভাবে গ্রাহকের বাসায় ব্যবহৃত সব বৈদ্যুতিক পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট রেট ধরে রাখা যায়। এরপর গ্রাহককে ফোন করে তার বাসায় কী কী তা জেনে নিলেই মূল বিল পাওয়া যাবে।

৭# পূর্ববর্তী বছরের বিলটাই শুধু বর্তমান বছরের মাসের সাথে মিলিয়ে পাঠিয়ে দেয়া যেতে পারে। এতে নতুন বিল ছাপানোর খরচও বেঁচে যায়, ফ্লুইড দিয়ে তারিখ বদলায় দিলেই চলতেছে...

৮# গ্রাহকদের জন্য যেমন খুশি তেমন বিল দেয়ার সিস্টেম চালু করা যেতে পারে। বিদ্যুৎ অফিসের লোকরা না জানলেও গ্রাহকরা ভালোমতোই জানে, প্রতি মাসে কেমন বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য কেমন বিল আসে। নিজেরা হিসাব করে দিলেও বিদ্যুৎ অফিসের চেয়ে বেটার হিসাব করবে!

২৪৮ পঠিত ... ২২:০৯, জুন ১৬, ২০২০

Top