ঘুরে আসুন মাথার উপরেই ছাদ-সৈকত থেকে: eআরকি কোয়ারেন্টাইন ট্রাভেল গাইড

১৮৭ পঠিত ... ১৬:৪৭, এপ্রিল ২১, ২০২০

মাথার উপর বিশাল আকাশ, কখনো ঝড়ো কিংবা কখনো মৃদু বাতাসের শরীর ছুঁয়ে যাওয়া আবেশে চোখ বন্ধ করলে সমুদ্রের গর্জন। এই সমুদ্রের গর্জনের আবার সুইচও আছে, বিরক্ত লাগলে বন্ধ করে দেয়া যায়। জীবনে অসংখ্যবার শেষ সময়ে এসে প্রচুর ট্যুর ক্যান্সেল করা মানুষটার মনেও এমন ভাবনা উঁকি দিচ্ছে, ভাবনার প্রতিফলন উঁকি দিচ্ছে ফেসবুকেও। কিন্তু লকডাউনের এই শহরে ঘোরা কি যাবে? হ্যাঁ, যাবে। আপনার শোয়া দূরত্বেই পেতে পারেন এমন সমুদ্র সৈকতের ফিল।

বলছি আপনার মাথার উপরে অবহেলায় পড়ে থাকা অপরূপ সৌন্দর্যের এক ছাদ সৈকতের কথা। আপনার বাসা থেকে খুব একটা দূরে না হওয়ায় এই সৈকতে বেড়াতে যেতে লকডাইন নিয়ে বিশেষ চিন্তা করা লাগবে না। কারণ এই ট্যুরে লকডাউন মাড়ানো তো অনেক দূরের কথা, বাসার গেটও মাড়াতে হবে না। শুধু কিছু সিঁড়ি মাড়িয়ে ছাদে গিয়ে পানির ট্যাংকির সুইচ অন করতে হবে। এরপর চোখ বন্ধ করলেই ট্যাংকিতে পড়া পানির আওয়াজে পাবেন সমুদের গর্জনের ফিল, মাথার উপর খোলা আকাশ, আর ফ্রি বাতাস তো আছেই।

এই সৈকতে আপনি যেতে পারেন যেকোন সময়। এক ঘন্টার ট্যুর থেকে শুরু করে একদিনের ট্যুর, এক রাতের ট্যুরও দিতে পারবেন ছাদ সৈকতে। হাতে একদম সময় না থাকলে দিতে পারেন ৫ মিনিটের ট্যুরও। এই সৈকতের সবচেয়ে বড় সুবিধেই এটা।

 

যা যা মনে রাখবেন

পারফেক্ট সমুদ্রের গর্জন পেতে ট্যাংকি খালি করে নিতে পারেন। খালি ট্যাংকিতে পানি পড়ার আওয়াজে ফিল ভালো আসবে। চোখ বন্ধ করে ট্যাংকির সাথে পিঠ ঘেঁষে বসলে সমুদ্রের গর্জনের ফিল সারা শরিরে পাবেন। ছাদে বাতাস কম থাকলে টেবিল ফ্যান নিয়ে যেতে পারেন। পাশের ছাদ সৈকতে কোন সুন্দরি মেয়ে বা কসুন্দর পুরুষ থাকলে উঁকি ঝুঁকি মারার আগে আশেপাশে দেখে নিতে নিবেন। বেশি বেশি পানি ছাড়ার আগে বাড়িওয়ালার বিষয়টা মাথায় রাখুন। তবে বাড়িওয়ালার ছেলে/মেয়েকে গাইড কিংবা ট্যুরমেট হিসেবে ম্যানেজ করতে পারলে পুরো ট্যুরটা নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারবেন।

 

যা যা একদম ভুলবেন না

আপনি স্মোকার হলে সৈকতের কোনায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট খেতে ভুলবেন না (যদিও করোনার এই সময়ে এভয়েড করলেই ভাল)। সাথে যদি চা খান, বাসা থেকে নিয়ে আসবেন।

নন স্মোকার হলে বিকেলের ছাদ সৈকতের রেলিং এর পাশে দাঁড়িয়ে ডালগোনা কফিও খেয়ে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, কফির কাপটা যেন এস্থেটিক হয়। তাহলে কিছু ছবিও তুলতে পারবেন।

 

বড়দের জন্য পরামর্শ

সিগারেট খেলে কিংবা পাশের বাসার প্রেমিক/প্রেমিকাকে নিয়ে বেড়াতে আসলে ছাদ সৈকতের দরজা বন্ধ করতে একদমই ভুলবেন না। ছাদে দরজা না থাকলে গার্ডের সাহায্য নেয়া ভালো। আশেপাশে খুঁজলে (কিংবা বাসায়) অল্প টাকায় পিচ্চি কিছু গার্ড পেয়ে যাবেন। এইসব গার্ডের সাথে টাকা নিয়ে ঝামেলা তো করবেনই না, মুলামুলি করারও চেষ্টা করবেন না। নিশ্চিন্ত থাকুন, পুলিশের মতো তারা বেশি টাকা চায় না।

 

যেভাবে যাবেন

ছাদ সৈকতে অনেকভাবেই যাওয়া যায়। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চারাস মানুষ হোন, তাইলে অ্যাডভেঞ্চারের বেশিরভাগ ফিলই আপনি পাবেন। রক ক্লাইম্বিংয়ের শখ থাকলে বাসার দেয়াল ঘেঁষা পানির পাইপ, গ্যাস পাইপ বেয়ে যেতে পারেন ছাদ সৈকতে। এক্ষেত্রে রুম থেকে থেকে বের হয়ে সিঁড়িপথে অথবা লিফট পথে নিচে এসে ক্লাইম্বিং শুরু করতে পারেন।

জুমারিং করতে চাইলে ছাদ সৈকতের রেলিং এ শক্ত করে একটা দঁড়ি বেঁধে করতে পারেন জুমারিং।

ট্রেকিং করার পথও রয়েছে ছাদ সৈকতে। এক্ষেত্রে বাসার একদম নিচের সিড়ি থেকে ট্রেকিং শুরু করতে পারেন। কখনো সিঁড়ি বেয়ে, কখনো সিড়ির রেলিং বেয়ে-ঝুলে পৌঁছে যেতে পারেন ছাদ সৈকতে।

তবে এ ধরনের কোন ঝামেলায় যেতে না চাইলে বাসা থেকে বের হয়ে সিঁড়ি পথে কিংবা লিফটেই চলে যেতে পারেন মাথার উপরের অপরূপ সৌন্দর্যের এই হাতছানি, থুক্কু, ছাদছানিতে...

১৮৭ পঠিত ... ১৬:৪৭, এপ্রিল ২১, ২০২০

Top