পাওনাদারের কাছ থেকে বাঁচার ১০টি এক্সক্লুসিভ টেকনিক, বিফলে পাওনা টাকা ফেরত

৮১৮ পঠিত ... ২১:৪১, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

মানুষকে বেঁচে থাকতে যে কাজগুলো করতেই হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো টাকা ধার করা। মাসের শেষকেই টাকা ধার করার মূল মৌসুম হিসেবে ধরা হলেও eআরকিকদের মতো গরিব লোকরা তো জানেনই, ধার শোধ করতেও আবার ধার করতে হয়! একবার ধার করলে সেই চক্র থেকে বের হওয়া খুবই কঠিন। আপনি যদি সেই চক্রের মধ্যে থাকেন, তাহলে পাওনাদারকে এড়িয়ে চলা আপনার সুস্থ জীবনযাপনের জন্য খুবই জরুরি। কিন্তু এই সামাজিক-অসামাজিক নানান রকম যোগাযোগের সময়ে কী করে এড়াবেন পাওনাদারকে? আমরা ভেবে বের করেছি (এইগুলা কইরাই তো টিইক্কা আছি রে ভাই) পাওনাদারকে এড়ানোর ১০টি এক্সক্লুসিভ টেকনিক। নিজে শিখুন, বন্ধুকেও শেখান, তবে যে বন্ধুকে শেখাবেন তাকে কখনো টাকা ধার দেবেন না।

১# রাস্তা-ঘাটে পাওনাদারকে এড়াতে হলে মুখে জোকারের মাস্ক পড়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন। নিজেকে এভাবে ট্রেন্ডি ও ফ্যাশন সচেতন বলে সমাজে উপস্থাপন করতে পারবেন। আপনাকে যদি চিনে ফেলে টাকা ফেরত চায়, জোকারের মতো ভাব নিয়ে এলোমেলো হাসি হেসে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলবেন, 'হোয়াই সো সিরিয়াস?

২# পাওনাদারের সাথে দেখা হলেই বলবেন, 'ভাই আসেন আপনাকে একটা জোক শোনাই'। এরপর অত্যন্ত ফালতু লেম জোকস বলে তাকে হাসাতে (আসলে রাগাতে বা বিরক্ত করতে) চেষ্টা করুন। গুগলে খুঁজে যথেষ্ট লেম জোক না পেলে প্রয়োজনে eআরকি ফলো করতে পারেন। আপনার লেম জোকসে বিরক্ত হয়ে পাওনাদার নিজেই আপনাকে এড়ায় চলবে কয়েকদিন পরে।

৩# পাওনাদার ফেসবুকে বা অন্য কোন সামাজিক মাধ্যমে আপনার সাথে বার্তা আদান প্রদানের চেষ্টা করলেই তাকে মুরাদ টাকলা ভাষায় মেসেজ দিতে থাকুন। চরম পর্যায়ে গিয়ে নিজের সকল স্ট্যাটাস ও মুরাদ টাকলা ভাষায় দিতে পারেন। এতে করে আপনার উপর বিরক্ত হয়ে পাওনাদার আপনাকে সামাজিক মাধ্যমে অন্তত এড়িয়ে চলবে।

৪# টাকা ধার করার পর আপনি সব সময় সাথে একটি ছেঁড়া-ফাড়া জামা ও একজোড়া ছেড়া স্যান্ডেল সাথে নিয়ে ঘুরবেন। যখনি আশে পাশে পাওনাদারকে দেখবেন সাথে সাথে ওই ছেড়া জামা আর স্যান্ডেল গায়ে গলিয়ে নিবেন। আপনাকে ভিক্ষুক ভেবে পাওনাদার চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে চলে যাবে।

৫# পাওনাদারকে সাথে করে লিভারপুল ও ম্যানইউ এর ম্যাচ চলাকালে এমন কোনো রেস্টুরেন্টে নিয়ে যান, যেখানে দুই দলের ফ্যানদের উপস্থিতিতে খেলা দেখা হচ্ছে। এরপরের কাজটা খুব সহজ, পাওনাদারকে ম্যান সিটি সাপোর্টার বলে পরিচয় করিয়ে দিন। বাকি যা কাজ অন্যরাই করে দেবে।

৬# টাকা ধার করেই প্রথমে 'জিএমবি আকাশ' পেজে আপনার একটি ফটোসেশন করিয়ে নিন। সঙ্গে পেজ মালিককে আপনার জীবনের করুণ কাহিনী জানাতে ভুলবেন না যেন। এরপর ছবিটি পাওনাদারকে দেখিয়ে বলবেন 'ভাই! বলুন তো ছবিটি কেমন হলো?'।

৭# আপনার পাওনাদার বন্ধু বা পরিচিত লোকটি কত উদার মনের তা নিয়ে সবার সঙ্গে গল্প করুন, বিশেষ করে অভাবী মিউচুয়াল ফ্রেন্ডের সঙ্গে তো গল্প করবেনই। তিনি যে যেকোনো সময় টাকা ধার দিতে প্রস্তুত থাকেন, যেকারো বিপদে পাশে দাঁড়ান এসব মহানুভবতার কথাও বলবেন। এরপর হয়তো আপনাকে টাকা ধার দিতে হবেই না, বরং সে-ই আপনাকে চুপ থাকার জন্য আরও কিছু টাকা দিতে পারে।

৮# পাওনাদারকে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ক্যাসিনোতে নিয়ে যান। পাওনাদার উল্টো মানুষের দ্বারে দ্বারে কয়েকদিন পরে টাকা ধার করে বেড়াবে।

৯# পাওনাদারকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের খেলা দেখতে বসুন। খেলার অনিশ্চয়তায় পাওনাদার হার্ট এটাক করে বসতে পারে। আর টেস্ট ম্যাচ দেখতে বসলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের অসাধারণ 'পারফরম্যান্স' দেখে লজ্জায় মাটি খুঁড়ে মাটির নিচেও চলে যেতে পারে।

১০# আমির খানের গজনী সিনেমার স্টাইলে চুল কাটান। হালকা একটু বডিও বানাতে পারলে ভালো। তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয়, সারা গায়ে বিভিন্ন কিছু লিখে রাখা (স্কুলজীবনে পরীক্ষার সময় হাতে লিখে নকল নেয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন)। এরপর মাথা চুলকাতে চুলকাতে রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। পাওনাদার সামনে পড়লেই তাকে জিজ্ঞেস করুন, 'হোয়্যার ইজ গজনী?' এছাড়াও বলবেন, 'কল্পনা ওয়াজ কিলড।' পাওনাদার নিজেই বুঝে নেবে, আপনার শর্ট টাইম মেমরি লস চলছে।

৮১৮ পঠিত ... ২১:৪১, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

Top