ব্যাচেলরের কাপড় ধোয়া : একটি ৭ দিনের রোমাঞ্চকর জার্নি

৫২৭ পঠিত ... ১৭:৫২, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

কয়েকদিন আগে সকালে বের হওয়ার জন্য রেডি হতে গিয়ে দেখলাম সবগুলো ফরমাল প্যান্ট ময়লা হয়ে গেছে। তিনটা জিন্স প্যান্টের ২টার দিকে তাকানো যাচ্ছে না, তাকালেই প্যান্টের উপরে বসবাস করা ময়লাগুলো দাঁত কেলিয়ে হাসছে। একটা মাত্র জিন্স প্যান্ট দেখলাম কিছুটা পরিষ্কার দেখাচ্ছে। ২১ দিন আগে ধোয়া নীল রঙের প্যান্টটি অ্যাশ কালার হয়ে গেলেও এখনো কয়লা কালার হয়নি, এইটা পরা যায়। শার্টগুলো মোটামুটি প্রতিটা ৪ বার করে পরা হয়ে গেছে। আর পরার উপায় নেই। তবে কালো রঙের শার্টটার ময়লা বোঝা যাচ্ছে না, এইটাও পরা যায়!

২১ দিন আগে ধোয়া জিন্স প্যান্ট ও চারবার পরার পরও তেমন ময়লা বোঝা না যাওয়া কালো শার্ট পরে বের হয়ে জীবনের প্রতি কিছু বিরক্ত হলাম! নাহ! এভাবে আর চলা যায় না। একটু ময়লা বদলের দরকার। কতদিন আর একই ময়লার সাথে থাকা যায়! কাপড় ধোয়ার এই চ্যালেঞ্জিং জার্নি শেষ করতেই হবে। এরপর ফুরফুরে মেজাজে মাস দুয়েকের জন্য নতুন ময়লাদের সাথে বসবাস করবো। নিজেকে নিজে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। শুরু করলাম একটি সপ্তাহব্যাপী চ্যালেঞ্জিং জার্নি।



প্রথম দিন

আগের দিনের ময়লা কাপড় পরে বেজক্যাম্প থেকে বের হওয়ার আগেই ঠিক করলাম, আজকে কাপড় ধুয়েই ফেলবো। রেকর্ড করেই শেষ করে দিবো এই জার্নি। বাসা মানে বেজক্যাম্প থেকে বের হলাম। সারাদিনের সকল অকাজ শেষ করে বেজক্যাম্পে ফিরে এলাম। ধোয়ার জন্য কাপড়গুলো স্তুপ করার পরই মনে পড়লো-সার্ফ এক্সেল আনতে ভুলে গেছি। জার্নিতে পিছিয়ে পড়ার জন্য একটু মন খারাপ হলো। কিন্তু হতাশ হলাম না। কাপড়গুলো স্তুপ করে রেখেই সিদ্ধান্ত নিলাম। কাল ফাইনাল।

 

দ্বিতীয় দিন

স্তুপ থেকে সবচেয়ে কম ময়লা হওয়া কাপড় পরেই বের হলাম এদিন। রাতে যখন বেজক্যাম্পে ফিরলাম তখন রাত ১০ টা। কাপড়ের স্তুপে দিকে তাকিয়ে মনে পড়লো-আজ আমার কাপড় ধোয়ার কথা! বুঝতেই পারছেন-কাপড় ধোয়ার কথাই ভুলে গেছি। সার্ফ এক্সেল কীজন্য আনবো?

 

তৃতীয় দিন

গতকাল পরা কাপড়গুলো স্তুপে রাখিনি। ঝুলানো আলনায় মেলে রেখেছিলাম। পরা যায়। তা পরেই বের হলাম। এইদিন আর কোন রিস্ক নেইনি। ঠিকই মনে করে সার্ফ এক্সেল এনেছিলাম। বেজক্যাম্পে এসে সার্ফ এক্সেলটা বিছানায় রেখে একটু গা এলিয়ে ফেসবুকিং করে নিলাম। হুট করে পেটটা ক্ষুধায় মোচড় দিয়ে উঠলো। কাপড়ের স্তুপের দিকে তাকালাম না। গোসল করে খেয়ে নিলাম। ভরা পেটে বেশি পরিশ্রমের কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই আর কাপড়ের স্তুপের দিকে তাকালাম না।

 

চতুর্থ দিন

সারাদিনের কাজ সেরে বেজক্যাম্পে আসলাম। বাইরে এত গরম ছিলো। ঘামে একদম জুবুথুবু অবস্থা। সারা গা কেমন স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে আছে। দ্রুত গোসল করে নিলাম। গোসল করার পর মনে পড়লো, আজকে কাপড় ধোয়ার কথা! কিন্তু এখন কাপড় ধুতে গেলে আবার গোসল করা লাগবে। পানির অপচয় হবে। বুঝতেই পারছেন, আজকে আর কাপড় না ধোয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। হ্যাঁ, স্তুপের তুলনামূলক কম ময়লা হওয়া কাপড় পরেই বের হয়েছি... নাঙ্গা বের হইনি!

 

পঞ্চম দিন

বেজক্যাম্প-তুলনামূলক কম ময়লা কাপড়-বাইরে অকাজ-বেজক্যাম্প। এই করে রাত ১০ টা। কাপড় ধোয়ার জন্য সকল ধরণের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিয়েই আসলাম আজকে। কিন্তু বেজক্যাম্পে এসে দেখি পানি নাই! কেমন লাগে বলেন! কোনভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে জমানো এক বালতি পানি দিয়ে গোসল করে নিলাম। আজকেও হলো না।

 

ষষ্ঠ দিন

প্রতিদিনের মতো ষষ্ঠ দিন কাটিয়ে রাত ১০টা বাজালাম। আজকে বেজক্যাম্পে পানি ছিলো, আগের সার্ফ এক্সেলটা ছিলো, শারীরিক ও মানসিকভাবেও প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকায় চ্যালেঞ্জটা পেলাম না। তাও সার্ফ এক্সেল দিয়ে কাপড় ভিজিয়ে দিলাম (কী ভাবছেন? আজকে কাপড় ধুবো না? আমি অতটা অলস না ভাই যতটা আপনি ভাবছেন...)

 

সপ্তম দিন

ষষ্ঠ দিন ছিলো বৃহস্পতিবার। বৃহস্পতিবার রাত উদযাপন করতে গিয়ে সেদিন কাপড় ভেজানো হলেও ধোয়া হয়নি। সেজন্যই সপ্তম দিনে আসা। এইদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই চ্যালেঞ্জিং জার্নিটা শেষ করে ফেললাম। সামান্য কাপড় ধোয়ার মতো একটা কাজকে রাতের জন্য ঝুলিয়ে রাখার কোন মানে হয় না। আমি অতও অলস না।

লেখা: নাজমুল হক

৫২৭ পঠিত ... ১৭:৫২, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

Top