চ্যানেল ঘুরিয়া ভেবে হইলাম সারা, মেহেজাবিনের চোখে এতো জল ছড়াইয়া দিলো কারা?

৮৬৮ পঠিত ... ১২:২২, জুন ১০, ২০১৯

এইখানে তোর ঈদের নাটক চ্যানেল-লোগোর তলে,
তিরিশ মিনিট ভিজানো হয়েছে দুই নায়িকার জলে।
মেহেজাবিনের চেহারাটা ভালো সোনার মতন মুখ,
নায়কের কিছু হয়ে গেলে পরে কাঁদিয়া ভাসায় বুক।
চ্যানেলে চ্যানেলে ঘুরিয়া ফিরিয়া ভেবে হইতাম সারা,
মেহেজাবিনের চোখে এতো জল ছড়াইয়া দিলো কারা!
বাংলাভিশন চ্যানেল আই আর মাছরাঙার স্ক্রিনে;
কাঁদিছে নায়িকা কখনো কারণে কখনো কারণ বিনে।
খাইবার কালে ভাতের প্লেটেও পড়িছে চোখের জল,
দেহের লবণ স্বল্পতায় আজ নায়িকাটা দূর্বল!

 

 

এমনি করিয়া জানিনা কখন নাটকের সাথে মিশে,
মেহেজাবিনের কান্নার মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
নিশোর সহিত ডেটের কালে কহিত ধরিয়া হাত,
'বাসায় গিয়ে কল দিও, আমি জাগিয়া রহিব রাত'
বাইকে চড়িয়া হেলমেট ছাড়া চালাইতে গিয়ে পরে,
এক্সিডেন্টে মরিয়া যাইতো, ফেরা হইতোনা ঘরে।
দেড় ঘন্টার নাটকের বাকি তিরিশ মিনিট জুড়ে,
মেহেজাবিনের চোখের জলে ভাসিয়া যাইতো কুঁড়ে!
হেসোনা হেসোনা শোনো দাদু সেই কান্নার সিন দেখে,
ইউটিউবেতে কত হত ভিউ, হাজারে ও লাখে লাখে।
অপূর্ব শুধু হইতো রিজেক্ট ইন্টারভিউয়ে গেলে,
সেই কষ্টে মেহেজাবিনটা কেঁদে মরে আঁখিজলে।
নিশোরে ছাড়িয়া এতো ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
অন্য চ্যানেলে প্রেমিক হিসাবে অপূর্বরে চায়!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা দয়াময়,
নেক্সট নাটকে অপূর্ব যেন একটা চাকরি পায়।

 


মেহজাবিন এই ছোট্ট জীবনে যত কাটিয়াছে পাড়ি
যেখানে যাহারে প্রেমিক করেছে সেই চলে গেছে ছাড়ি।
শত ব্রেকাপের শত মেকাপের অঙ্ক হৃদয়ে আঁকি,
কাঁদিয়া কাঁদিয়া সাগর করেছে সারা দিনমান জাগি।
পরিচালকেরা ক্যামেরা ধরিয়া মেহেজাবিনের পরে,
আর কিছু নয়, কাঁদিতেই বলে কয়েক ঘন্টা ধরে!
কান্নাকে সে যে বড় ভালোবাসে, কাঁদিয়া ভাসায় বুক
আয় আয় দাদু টিভিখানা ছাড়ি, দেখে পাই কিছু দুখ!

এই নাটকে নিশো বেকার ঐ নাটকে জোভান-
কাঁদছে মেহেজাবিন, কি করবে দাদু, মানছে না যে মন।
আরটিভিতে অপূর্ব আসিয়া কহিলো তাহারে ডাকি,
'ও জান আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি'
রিমোট চাপিয়া এসিটা ছাড়িয়া কহিল, 'বাবু শোও'।
সেই শোয়া তার শেষ শোয়া হবে তাহা কি জানিত কেউ?
এনটিভিতে নিশো সারাদিন রাস্তার ধারে ঘোরে,
পাগল হয়েছে মেহেজাবিনের বিয়ে হয়ে গেলে পরে!
এসব কারণে এই মেয়েটার কথা থেমে যায় মুখে,
সারা দুনিয়ার যত জল আছে দেখা দেয় দুই চোখে।

প্রেমিকের শেষ স্মৃতিচিহ্নটা দুহাতে জড়ায়ে ধরি,
মেহজাবিন যে কতই কাঁদিত সারা দিনমান ভরি!
ফেয়ার এন্ড লাভলি সেই কান্নাটা মুছে দিত গ্লো দিয়ে,
লাক্স এনে দিত ফুলেল সুরভি, হলুদ লাইফবয়ে।
এডের সোদনে করুণ রোদনে চ্যানেল করিয়া চেঞ্জ,
দেখিতাম সেথা মরিয়াছে নিশো নায়িকা নেয় রিভেঞ্জ!
প্রতিশোধ নেয়া শেষ হলে পরে আবারো কান্না শুরু,
ফারিয়া তিশা যতই কাঁদুক মেহজাবিনই যে গুরু।
তাই জীবনের প্রথম বেলায় ডাকিয়া আনিলো সাঁঝ,
ধরা পড়িয়াছে ক্যান্সার দেহে মাথায় পড়িছে বাজ!
চ্যানেল আইতে ব্লাড ক্যান্সার মাছরাঙায় ব্রেন,
মেহজাবিন আর বাঁচিবেনা বুঝি, চোখেতে জলের ড্রেন।
ফোটায় ফোটায় দুইটি গন্ড ভিজায়ে নয়ন জলে,
একই কাহিনী সকল নাটকে করে গেল কোন ছলে!


চ্যানেলে চ্যানেলে ঈদ শেষ হয় ঘন আবীরের রাগে,
ঢাকায় সুপেয় পানির অভাবে বড় দুখ আজ জাগে।
বিটিভি হইতে আজান হাকিছে বড় সুকরুণ সুর,
মেহজাবিনের জলের স্টক ভাবিতেছি কত দূর।
খোদার নিকটে মোনাজাত ধরে জোড়হাতে দাদু বল,
ওয়াসার বাদে ঢাকাবাসী পাক মেহজাবিনের জল!

(পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের 'কবর' কবিতা অবলম্বনে)

৮৬৮ পঠিত ... ১২:২২, জুন ১০, ২০১৯

Top