অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম যদি বাংলা, হিন্দি, তামিল বা কোরিয়ান সিনেমা হতো

১৪৯৮ পঠিত ... ২০:৫৯, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

হালের আলোচিত সিনেমা অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম দেখে ফেলেছে বাংলার মার্ভেলপ্রেমীদের অনেকে! অনেকে স্পয়লার পেয়ে অভিমান করে দেখবে না বলে ঠিক করেছে, আর অনেকে অ্যাভেঞ্জার্স কী জিনিস তাও এখনো বুঝতে পারছে না। সে যাই হোক, একটু ভাবুন তো, অ্যাভেঞ্জার্স এন্ড গেম যদি হলিউড সিনেমা না হয়ে বাংলা, তামিল, হিন্দি বা কোরিয়ান সিনেমা হতো, তাহলে কেমন হতো সিনেমাটির গল্প? কখনো না তৈরি হওয়া সেই অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেমের সেই আনরিলিজড ভার্সনগুলোই আপনাকে দেখাচ্ছে eআরকি!


অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম যখন বাংলা সিনেমা

নাম: গরিবের ছেলে অ্যাভেঞ্জার্স- খেল খতম।

কাহিনী সংক্ষেপ: বিখ্যাত ব্যবসায়ী থানোস চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে গামোরা৷ যেমন সুন্দরী তেমন গুণবতী। গামোরার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে গরীবের ছেলে স্টার লর্ড। একদিন গামোরা ইউনিভার্সিটিতে গেলে স্টার লর্ডের সাথে ধাক্কা খায় ক্যাম্পাসে৷ স্টারলর্ডের পিস্তলের সাথে গামোরার তরোয়াল আটকে যায়। দুজনের প্রেম হয়ে যায় এক ধাক্কায়। গান শুরু হয়, 'তোমার ঐ সবুজ দেহে আমি আমার মন হারাইছি ও বন্ধু, আমি প্রেমে পইড়াছি।'

এদিকে ব্যবসায়ী থানোস চৌধুরী আসলে খারাপ লোক। তিনি ভুল ঔষধ দিয়ে গরিবদেরকে মেরে ফেলতে চান। দেশে শুধু বড়লোক থাকবে, কোনো গরীব থাকবে না, এটাই তার চাওয়া। তার অনেক ক্ষমতা। তো থানোস চৌধুরীকে থামাতে আয়রনম্যান, থর, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, স্পাইডারম্যান, হাল্ক, এন্ট ম্যানসহ আরো কয়েকজনকে দিয়ে সরকার স্পেশাল টিম গঠন করে। তারা সবাই দেশসেরা অফিসার।
কিন্তু এতজন মিলেও থানোসের সাথে পারে না। থানোস চৌধুরী স্পেশাল টিমের প্রায় অর্ধেককে মেরে ফেলে। এমন সময় সে জানতে পারে, তার মেয়ে এক গরিবের প্রেমে পড়েছে। স্টার লর্ডকে মারার জন্য গুন্ডা পাঠায় থানোস৷ তারা গিয়ে স্টার লর্ড কে মেরে পানিতে ফেলে দিয়ে আসে। কিন্তু আসলে সে মরে না। থানোস চৌধুরী তাকে মৃত ভেবে খুশি হয়। এরপর বারে গিয়ে, 'যতই যুদ্ধ করো রাতে, ইনফিনিটি স্টোন আমার হাতে' শীর্ষক আইটেম গানে ঝাকানাকা ডান্স দেয়।

অন্যদিকে থর পানি থেকে স্টারলর্ডকে বাচায়। স্টার লর্ড থরকে সব খুলে বলে, বলে যে থানোসের আস্তানা চিনি আমি। গামোরা আমাকে নিয়ে গেছিলো একদিন। তখন থর বেচে যাওয়া অন্যান্য অফিসারদের নিয়ে থানোসের বার ঘিরে ফেলে। প্রচন্ড মারামারি হয়। একদম শেষে হাল্ক থানোসকে মারতে গেলে পুলিশ এসে বলে, 'আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না প্লিজ।'

কোর্টে থানোসের ফাসি হয়। স্টার লর্ড আর গামোরার বিয়ে হয় ধুম ধাম করে। বিয়েতে থর, হাল্ক, আয়রনম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, ব্লাক উইডো, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ সবাই আসে। সবাই একসাথে ছবি তোলে। রোমান্টিক গানের পাঁচ সেকেন্ডের একটা ক্লিপ দেখিয়ে লেখা ওঠে, 'সমাপ্ত'।

 

অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম যখন তামিল সিনেমা

নাম: অ্যাভেঞ্জার্স- দুনিয়া কা রাকশাক

কাহিনীসংক্ষেপ: অ্যাভেঞ্জার্স সিরিজের গত সিনেমা, 'অ্যাভেঞ্জার্স- খাতারনাক খিলাড়ি' শেষে একটা প্রশ্ন থেকে যায় দর্শকদের মাঝে। সেটা হলো, 'থানোসনে অ্যাভেঞ্জার কো কিউ মারা?'

সেটারই ধারাবাহিকতায় এই শেষ পর্বে দেখা যায় থানোসের বাবা যে দেখতে থানোসের মত সে খুব অত্যাচারী রাজা ছিলো। সে তার রাজ্যের অর্ধেক প্রজাকে মেরে ফেলেছিলো। তার কাজে যারা যারা বাঁধা দিয়েছিলো, তাদেরও শেষ করে দিয়েছিলো। যেমন স্টার লর্ড, ভিশন, ব্লাক প্যান্থার, স্পাইডারম্যান, স্কারলেট উইচ, এন্ট ম্যান ইত্যাদি সবাইকে৷ কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এদের রেখে যাওয়া সন্তানের চেহারাও একদম এদের মতই হয়েছে বড় হয়ে। যারা এবার লড়ছে থানোসের ছেলে থানোসের সাথে। এমনকি থানোসের বাবা যাদের মারতে পারে নাই, সেই থর, আয়রনম্যান, হাল্করাও এসেছে এই থানোসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।

এমন সময় নায়িকা ব্লাক উইডোকে রাস্তায় দেখে পছন্দ হয়ে যায় থানোসের। সে ব্লাক উইডোকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু থর একাই গিয়ে থানোসের এক হাজার গুন্ডাকে মেরে ব্লাক উইডোকে বিয়ের আসর থেকে তুলে আনে। রেগে গিয়ে থানোস থরের ছোটভাই লোকিকে খুন করে। এবং অন্যান্য অ্যাভেঞ্জার্সকে মারার জন্য নিজের মেয়ে গামোরাকে দিয়ে এক ষড়যন্ত্র সাজায়। গামোরা স্টার লর্ডকে প্রেমের জালে ফাসিয়ে এভেঞ্জার্সদের তার বাসায় দাওয়াত দিয়ে আনে। বাসায় আসার সাথে সাথে থানোস সবাইকে জেলে আটকিয়ে ফেলে। শুধু হাল্ক বাইরে থাকে, কারণ সে দাওয়াত খেতে আসে নাই। থানোসের দুই গুন্ডা জেলের মধ্যে গিয়ে স্কারলেট উইচকে ধর্ষণ করতে গেলে সে চিৎকার করে বলে, 'মেরা ফ্রেন্ড হাল্ক আয়েগা।'

এমন সময় ছাদ ভেঙে হাল্কের এন্ট্রি হয়। হাল্ক সবাইকে মেরে জেল থেকে অ্যাভেঞ্জার্সদের বের করে নিয়ে যায়৷ থানোস মেয়ে গামোরাকে নিয়ে গোপন পথ দিয়ে পালাতে গেলে গামোরা থানোসের পিঠে তরবারি ঢুকিয়ে দিয়ে বলে, 'আমি জানি তুমি আমার বাবা না। তুমি ছোটবেলায় আমার বাবাকে খুন করেছ। আয়রনম্যান মামা আমাকে সব বলেছে।'

থানোস মারা যায়, সিনেমা শেষ হয়ে যায়। সিনেমার শেষে তামান্না ভাটিয়ার একটা আইটেম সং আছে৷

 


অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম যখন কোরিয়ান সিনেমা

নাম: অ্যাভেঞ্জার্স এন্ড গেম- 10 days of twist.

কাহিনীসংক্ষেপ: সব অ্যাভেঞ্জারের সাথে থানোসও একই কলেজে পড়ত একসময়। সবার গার্লফ্রেন্ড হলেও কলেজে চেহারা খারাপ বলে থানোসের সাথে কেউ কথা বলত না। থানোস মনে মনে ভার্জিনিয়া পেপার পটসকে ভালোবাসতো। যাকে আয়রনম্যান বিয়ে করে ফেলে। বিয়েতে আয়রনম্যান কলেজের সব এভেঞ্জার্সকে দাওয়াত দিলেও থানোসকে দাওয়াত দেয় না। এমনকি সিনিয়র ডক্টর স্ট্রেঞ্জ আর অন্য কলেজের ব্লাক প্যানথারও দাওয়াত পায়। থানোস রেগে গিয়ে ঠিক করে, যে করেই হোক সে এই অপমানের প্রতিশোধ নেবে।

অনেক বছর পর সে কলেজের প্রিন্সিপালের সাথে ষড়যন্ত্র করে সবাইকে একটা রিইউনিয়নে ডাকে। কলেজ ক্যাম্পাস সুন্দর করে সাজানো হয়। গানবাজনার ব্যবস্থা থাকে। কলেজের পুরাতন সব স্টুডেন্ট আসে রিউনিয়নে। থানোস তখন এভেঞ্জারদের বউদের আংটি থেকে একটা করে দামি পাথর চুরি করে তাদের ব্যাগে চিরকুট রেখে আসে। চিরকুটে লেখা থাকে, পাথর ফেরত পেতে হলে রাতে লেকের পাড়ে আসো। রাতে লেকের পাড়ে জাদুর মাধ্যমে শয়তান নামায় থানোস। অ্যাভেঞ্জার্স আর তাদের বউদের মেরে ফেলে শয়তান। বেচে যায় থর, আয়রনম্যান আর হাল্ক। কারণ তারা আগে থেকে থানোসের প্লান জেনে গেছিলো। তারা আসলে অ্যাভেঞ্জার্স না, তারা গোয়েন্দা।

একটু পর দেখা যায়, থানোস যাদের মেরেছিলো তারা সত্যি সত্যি মরেনি। মরার ভান করেছিলো। যে শয়তান নেমেছিলো সে আসলে শয়তান না, সে এঞ্জেল। তখন আসল কাহিনী জানা যায়, অ্যাভেঞ্জার্স আসলে কেউ এই রিইউনিয়নে আসেই নাই। যারা এসেছিলো তারা ছদ্মবেশী সিরিয়াল কিলার। আর স্টোনগুলোও দামি না। নকল স্টোন। এই পর্যায়ে আসে আসল টুইস্ট। থানোস আসলে ছেলে না, সে মেয়ে। সে থরকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু থর ভালোবাসে ডক্টর স্ট্রেঞ্জকে। কারণ তারা গে। সিনেমার লাস্ট টুইস্টে দেখা যায়, 'এভেঞ্জার্স এন্ড গেম- টেন ডেজ অফ টুইস্ট' আসলে কোনো সিনেমাই না। এটা একটা মঞ্চ নাটক। মঞ্চের পর্দা পড়ার মাধ্যমে সিনেমাটি শেষ হয়।

 

অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম যখন হিন্দি সিনেমা

নাম: অ্যাভেঞ্জার্স রিটার্ন- থানোস নে ইনফিনিটি স্টোনস লে জায়েঙ্গে

কাহিনীসংক্ষেপ: এটা মূলত ভারতের জাতীয় বীর থানোস কুমার শর্মার বায়োপিক। ইনফিনিটি স্টোনগুলো এককালে ছিলো ভারতীয় রাজপুতদের সম্পত্তি। পরে ব্রিটিশরা ওগুলো নিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ব্রিটিশদের থেকে স্টোনগুলো আমেরিকা কিনে নেয় নিলামের মাধ্যমে। তারপর অ্যাভেঞ্জার্স নামক একদল দুর্ধর্ষ এফবিআই এজেন্টকে দায়িত্ব দেয় স্টোনগুলো পাহারা দেয়ার।

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসর এলাকার এক ছেলে থানোস কুমার শর্মা ছোটবেলা থেকেই ঠিক করে আমেরিকা গিয়ে অ্যাভেঞ্জারদের হারায়ে স্টোনগুলো ভারত ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু দেখা যায় সে খুবই অকর্মা যুবক। নায়িকার সাথে প্রেম করা ছাড়া তার আর কোনো কাজ নাই। এদিকে নায়িকার বাবা একদিন নায়িকাকে নিয়ে আমেরিকা চলে যায়। সেখানে নায়িকার বিয়ে ঠিক করে। এক বন্ধুর মাধ্যমে নকল ভিসা নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমায় থানোস কুমার শর্মা। সেখানে গিয়ে এক ডাকাত দলের সাথে মিশে যুদ্ধ শেখে। তখনো তার মনে ইনফিনিটি স্টোনগুলো পাওয়ার স্বপ্ন। নায়িকা তাকে বলে, তুমি দেশের জন্য কিছু করলেই আমার বাবা তোমাকে পছন্দ করবে৷ কারণ নায়িকার বাবা ছিলো রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার।

থানোস কুমার শর্মা অ্যাভেঞ্জার্সদের হারিয়ে ইনিফিনিটি স্টোনগুলো উদ্ধার করতে যায় দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে। তারপর সে কি পারবে ভারতে স্টোনগুলো ফিরিয়ে আনতে? পারবে অ্যাভেঞ্জার্সদের হারাতে? নায়িকার সাথে বিয়ে হবে কার? এগুলো জানতে হলে দেখতে হবে, 'অ্যাভেঞ্জার্স রিটার্ন- থানোস নে ইনফিনিটি স্টোনস লে জায়েঙ্গে' সিনেমাটি।

১৪৯৮ পঠিত ... ২০:৫৯, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

Top