একটা মানুষ এতটা ভালো কীভাবে বাসতে পারে!

১৬৬৭ পঠিত ... ১৭:২৯, আগস্ট ২৩, ২০২২

Ekta-manush-kivabe-eto-valo-baste-pare

৩ সিটের সোফা। আমি বসেছিলাম এক সাইডে, অন্য সাইডে ছিলো আমার বউয়ের সুন্দরী কাজিন। মাঝখানটা ফাঁকা। বেড়াতে এসেছে সবাই। আমরা গল্প করছিলাম।

আমার বউ অফিস থেকে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেই আমাদের এই অবস্থায় দেখে দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর কী জানি বিড়বিড় করতে করতে রুমে চলে গ্যালো। আমিও দ্রুত উঠে রুমে গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হইছে?’

বউ চুপচাপ। খেয়াল করলাম তার চোখ লাল হয়ে গেছে। গলার রগটাও কেমন ফুলে ফুলে উঠছে। রেগে গেলেই তার এমনটা হয়। আমি ভয়ে ভয়ে বউয়ের পাশে বসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। তখনো আমি জানি না যে, কী হচ্ছে!

ওর এমন ব্যবহারে  আমি মিনমিন করতে থাকি। হঠাৎ বউ বলে উঠলো, ‘তার সাথে সোফায় বসতে তো ভালোই লাগছিলো, তাই না? যাও, গিয়ে বসে থাকো। আমার সামনে আর আসবা না।’

এই কথা শুনে আমি বললাম, ‘ওকে! তুমি এত সহজে রাজি হবা, বুঝি নাই। যাইতেছি।’

এর পর আমি সোফায় বসে বউয়ের সুন্দরী কাজিনের সাথে বসে গল্প করতে থাকলাম। বউ আড়াই মিনিটের মধ্যেই ব্যাগ গুছিয়ে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। বললো, ক্যারেকটারলেস কোথাকার! তোরে তালাক দিলাম।

সবাই আমার বউকে বোঝানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু বউ বুঝলো না। সে একটা গালি দিয়ে ব্যাগ নিয়ে চলে গেলো। তার কিছুদিন পরেই তালাকের নোটিশ পেলাম।

এই ঘটনার পর আমি খুব ভেঙে পড়লাম। সবাই আমার অবস্থা দেখে আমার বউয়ের সেই কাজিনের সাথেই আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলো।

বিয়ের এক বছরের মাথায় আমার নতুন বউ ওর কাজিন, মানে আমার সুন্দরী এক্স বউয়ের পরিবারের সবাইকে দাওয়াত দিলো। এক্স বউয়ের সাথে আমি সোফায় বসে গল্প করছিলাম। নতুন বউ বাথরুম থেকে বের হয়ে আমাদের আমাদের এই অবস্থায় দেখে দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর কী জানি বিড়বিড় করতে করতে রুমে চলে গ্যালো। আমিও দ্রুত উঠে রুমে গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হইছে?’

নতুন বউ চুপচাপ। খেয়াল করলাম তার চোখ লাল হয়ে গেছে। গলার রগটাও কেমন ফুলে ফুলে উঠছে। রেগে গেলে আমার এক্স বউয়ের মতো তারও এমনটা হয়। আমি ভয়ে ভয়ে নতুন বউয়ের পাশে বসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। তখনো আমি জানি না যে, কী হচ্ছে!

ওর এমন ব্যবহারে  আমি মিনমিন করতে থাকি। হঠাৎ নতুন বউ বলে উঠলো ‘তার সাথে সোফায় বসতে তো ভালোই লাগছিলো, তাই না? যাও, গিয়ে বসে থাকো। আমার সামনে আর আসবা না।’

এই কথা শুনে আমি বললাম, ‘ওকে! তুমি এত সহজে রাজি হবা, বুঝি নাই। যাইতেছি।’

এর পর আমি সোফায় বসে এক্স বউয়ের সাথে গল্প করতে থাকলাম। নতুন বউ আড়াই মিনিটের মধ্যেই ব্যাগ গুছিয়ে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। বললো, ক্যারেকটারলেস কোথাকার! তোরে তালাক দিলাম।

সবাই আমার নতুন বউকে বোঝানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু নতুন বউ বুঝলো না, সে একটা গালি দিয়ে ব্যাগ নিয়ে চলে গেলো। তার কিছুদিন পরেই তালাকের নোটিশ পেলাম।

এই ঘটনার পর আমি খুবই ভেঙে পড়লাম। পরিবারের সবাই আমার অবস্থা দেখে আমার নতুন বউয়ের কাজিন, মানে আমার এক্স বউয়ের সাথেই আমাকে আবার বিয়ে দিয়ে দিলো।

এখন আমার নতুন এক্স বউ... মানে আমার বর্তমান এক্স বউ... না না, আমার নতুন কিন্তু পুরাতন এক্স বউ... ধুর বাল, বলতেই পারতেছি না!

এসব বাদ, শুধু বউ-ই বলি।

বউ আমাকে বাসর রাতে চিৎকার করে বললো, আর এমন বিয়ের চক্র শুরু করলে আমাকে শুটিয়ে লাল করে দেবে। এই শুনে আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম। ও শান্ত হয়ে এলো। আমি ওয়াদা করলাম, আর এমনটা হবে না।

এই দফায় তিন বছর পার করে ফেললাম আমরা। বউ আর ওর কাজিনকে দাওয়াত দেয় না। আমি দাওয়াত দিতে বললে গালাগালি করে। কিন্তু আমি তো বুঝি, এই গালাগালিটা বউ কেন করে! আসলে  ও আমাকে আর হারাতে চায় না।

একটা মানুষ এতটা ভালো কীভাবে বাসতে পারে!

১৬৬৭ পঠিত ... ১৭:২৯, আগস্ট ২৩, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top