সিনথিয়া দুবাইয়ে ইদ করতে চায়

৪৮৮ পঠিত ... ১৫:৫১, মে ০২, ২০২২

Synthia

সিনথিয়া বেঁকে বসে। এবার আর দেশে ইদ নয়; এবার সে দুবাইয়ে ইদ করতে চায়। ফাহিম এবার মায়ের সঙ্গে ইদ করতে চায়। কিন্তু সিনথিয়া ঢাকার মেয়ে। পাবনার মতো ছোট শহরে গেলে ওর দম আটকে আসে। আর ওখানকার মানুষ খুব বেশি হাসে। সিনথিয়ার বাবা সিএসপি ছিলেন। সুতরাং মেপে কথা বলা; মেপে হাসা ওদের ছোটবেলার ট্রেনিং। পাবনায় গেলে শান্তি পাবে না। পায়নি কোনদিন। পাবনায় একটা পাগলাগারদ আছে বলে; ফাহিমকে বিয়ে করার পর থেকে সিনথিয়াকে নিয়ে বন্ধুরা হাসাহাসি করে, পাগলরে বিয়া করছে!

ফাহিম তো পাগলই। বিসিএস অফিসার হয়েছে দেশের সেবা করতে। ইউএনও, এডিসি, ডিসি হিসেবে প্রত্যন্ত এলাকায় দায়িত্বপালন করেছে। সিনথিয়া ঢাকায় তার মায়ের বাড়িতে থেকেছে সবসময়। ওরে বাবা, মফস্বলে মিনারেল ওয়াটার নেই; সব জায়গায় হাইকমোড নেই। আনকমফরটেবল লাগে। তাছাড়া বাচ্চাকে মাস্টারমাইন্ডে পড়াতে হয়েছে। সরকারি স্কুলে পড়ালে ফাহিমের মতো পাগল হয় যদি; দেশসেবার বাতিক হয় যদি। তাছাড়া সিনথিয়ার বড় বোন পই পই করে বলে দিয়েছে, ‘বাংলাদেশটা বস্তি। ছেলেটাকে ভালো করে ইংলিশ শিখিয়ে মেরিল্যান্ডে পাঠিয়ে দে। এমেরিকা ইজ আ ল্যান্ড অফ অপরচুনিটি।‘

সিনথিয়া রাতে খাবার টেবিলে বলে, ‘দুবাইয়ের টিকেট কেটেছি; কাতার এয়ারওয়েজে; রিজনেবল প্রাইসে। ভেবো না, তোমার কাছে টাকা চাইছি না। ছোট আপা স্পনসর করেছেন। দুলাভাই কেমন ভিলা কিনলেন একটু দেখে আসি। আমাদের ভাগ্যে তো একটা ৩০০ গজের অ্যাপার্টমেন্টই নেই। আমাদের সাহেব যে যুধিষ্টির। উনার কলিগেরা ক্যানাডায় সেকেন্ড হোম করে ফেললো; আর ফাহিম সাহেবের প্রথম হোমের খবর নাই।‘

ফাহিম বলে, ‘বেশ তো তুমি ঘুরে এসো, আমি ছেলেটাকে নিয়ে পাবনায় যাই।‘

: না না ও ঢাকায় নানুর সঙ্গে ইদ করবে! পাবনা গেলে কোক খেয়ে হাইপার হবে। ওখানে তো মানুষ আদর করে কোক খাওয়ায়। বোঝে না এগুলো খেলে বাচ্চারা হাইপারঅ্যাকটিভ হয়ে যায়।

সিনথিয়ার বান্ধবী মাঈশা ওর সঙ্গে যাচ্ছে। মাঈশা ইনডিপেন্ডেন্ট ওম্যান। ফ্রিদা কাহলো ওর আইকন। অ্যাকশানএইডে কাজ করে। আর ইআরকিতে রম্য লেখে। ফাহিমও টুকটাক লেখে; ফাহিমের লেখা ও খুব এনজয় করে। কিন্তু ইনফ্যাচুয়েশানকে প্রশ্রয় দেয়না মাঈশা। বান্ধবীর হাবিকে ভালো লাগা পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট একটা ব্যাপার।

ফাহিম নিজে গাড়ি চালিয়ে সিনথিয়া আর মাঈশাকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দেয়। সিনথিয়া ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করতে চায়। বাবার আমল থেকে সে এই লাউঞ্জ ব্যবহার করে। ফাহিম কোন ফেভার নেয়া অপছন্দ করে। তবু জুনিয়রদের ফোন করে সিনথিয়ার জন্য ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের ব্যবস্থা করে।

এক তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা এগিয়ে এসে সালাম দিয়ে বলে, ‘ভাবী আপনি এলে তবু একটু দেখাসাক্ষাত হয়। ফাহিম স্যার তো সাধারণ যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে বোর্ডিং পাস নেন। ফলে দেখা হয় না। ভাবী কফির সঙ্গে কী খাবেন? এখানে স্পেশাল লেমন পেস্ট্রি পাওয়া যায়।‘

সিনথিয়ার খুব ভালো লাগে কার্টিয়াস তরুণ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে। হাসতে হাসতে বলে, ‘ফাহিম স্যারকে দেখে শিখলে কিন্তু ঢাকায় বাড়ি হবে না। সাবধান; এমন ইম্প্র্যাক্টিক্যাল হতে নেই।‘

তরুণ কর্মকর্তা আবার হাসে, ‘স্যারের লেখা পড়ে আমাদেরও মাথা বিগড়ে যায় ভাবী। ডিলেমায় পড়ে যাই। সমাজে মোহরের হাতছানি; স্যারের লেখায় মোহরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া।‘

ফাহিম কমলাপুরে গিয়ে ঈশ্বরদীগামী ট্রেনে ওঠে। মনের মধ্যে ইউনিভার্সিটিকালের আনন্দ হুঁই দেয়। মায়ের কাছে যাচ্ছি; এই একটা চিন্তায় পৃথিবীর সব কিছু যেন এক লহমায় ভালো লাগাতে শুরু করে। এই ভীড়-কোলাহল-রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা যাত্রা শুরুর। ঢাকা পেরোলেই প্যাসেজ টু হেভেনের বাংলাদেশ।

দুবাই এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন করিয়ে লাগেজ সংগ্রহ করে বাইরে বের হতেই দেখা যায়; ছোট আপা দাঁড়িয়ে। সঙ্গে শোফার ড্রিভেন প্রাডো। ছোট দুলাভাই আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কারিগর। সে উন্নয়নের ছিটেফোঁটা দুবাইয়ে এনেছেন; উপচে পড়া জিডিপি ঝুড়ি থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তাবাররক হিসেবে কুড়িয়ে। মাঈশা মনে মনে ভাবে, এটা ফাহিম ভাইয়ের স্যাটায়ারের টপিক। তার কাজ এদের গাড়ি, বাগান, ঝুল বারান্দা, প্রাসাদের প্রশংসা করা। হোটেল খরচ বেঁচে যাওয়ায় সেও উন্নয়নের প্রসাদ পেলো। ওয়েস্ট ওপেন হাভেলির সমুদ্রবর্তী অতিথি কক্ষে তার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। ছোট দুলাভাই তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে গেলেন, ইদে তার ব্যাংককে বিজনেস মিটিং; বিশ্বের দ্রুততম ধনীদের সঙ্গে।

ঈশ্বরদী বাই পাস রেলস্টেশনে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলো, জুনিয়র এক ম্যাজিস্ট্রেট। ফাহিম ব্যাগ হাতে ট্রেন থেকে নেমে বলে, ‘তোমাকে জানানোই ভুল হয়েছিলো রাশিদ। আমি দিব্বি বাসে করে পাবনা চলে যেতে পারতাম।‘

রাশিদ হাসে, ‘স্যার একটু গল্প করার চান্স ছাড়তে চাইলাম না!’

ফাহিম বলে, ‘আমাকে গল্প দাদু পেয়েছো নাকি?’

ঈশ্বরদী জংশন বৃটিশ আমলের পুরোনো একটা শহর। এর দালান কোঠার স্থাপত্য নিয়ে যায় প্রত্ন সময়ে। রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্রে কাজ করতে আসা রুশদের উপস্থিতিতে মাঝে মাঝে একে লেনিনগ্রাদ বলে ভ্রম হয়। ঈশ্বরদীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেনিনগ্রাদের প্রতিরোধ যুদ্ধের মতোই সাহসী আর রোমাঞ্চকর ছিলো। ফাহিমের বেশ কয়েকজন আত্মীয় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন; কিন্তু এই জনপদ কখনও ঘৃণার চাষবাস করেনি। তাইতো অবাঙ্গালিরা ঈশ্বরদীর লোকোশেডের পাশে আনন্দে বসবাস করে। পাশেই হিন্দুপাড়া। ঈশ্বরদীর রাজনীতি সবসময়ই সভ্যতার পক্ষে। ঢাকার চোখের বদলে চোখ রাজনীতির ফুটসোলজার হতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের তরুণ ফুটসোলজারদের জীবন বিনা অপরাধে জেলে কেটেছে। কিন্তু কেউই প্রতিশোধ স্পৃহা লালন করে না মনে। এটাই ঈশ্বরদী সমাজের আধুনিকতা ও সৌন্দর্য্যের জায়গা।

মাঈশা সিনথিয়াকে নিয়ে যায়, সাওনা সেন্টারে; এরপর মাসাজ পার্লারে নিয়ে গিয়ে বলে, ‘ইনডালজ ইওরসেলফ সিনথিয়া।‘

সিনথিয়ার একটু সংকোচ হয়। তবু থাই মেয়েগুলো বেশ যত্ন করে শোল্ডার মাসাজ করে দেয়। মাঈশা বলে, ‘মেয়েরা আমার ঘাড়ের ক্লট খুলতে পারে না। ওদের সে শক্তি নেই।‘ এক হাবশি যুবক শোল্ডার মাসাজ দেয় অনেক আশা নিয়ে। কিন্তু দক্ষিণ এশীয় ফ্রিদা কাহোলোর দৌড় আর কতদূরই বা হবে! সাউথ এশিয়ার ফিল্মের ট্রেলার উদ্দীপক হয়। কিন্তু মুভিটা হয়; ভেজিটেবল কারেজ; রবীন্দ্রনাথের ঘুম পাড়ানি গান। বড় জোর একটু ওয়াইন চেখে সিগেরেটের ধোঁয়া ভেতরে না নিয়ে অপর্ণা সেনের মতো একটু গলা ভারী করে ইংলিশ ভিংলিশ বলে; সহজ সরল পুরুষের বুকে আশার বাতি জ্বালা। কিন্তু দিনশেষে সে আশা আলেয়া হয়ে রয়ে যায়।

ফলে মাঈশা আর সিনথিয়ার দুবাই ভ্রমণ এলিসের ওয়ান্ডারল্যান্ড কিংবা মিকিমাউসের ডিজনিল্যাণ্ড স্কাউটিং হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েরা আসলে শিশুতোষ একটা ব্যাপার। মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি, আজ আমাদের ছুটি ওভাই; আজ আমাদের ছুটি।

মাঈশা কী মনে করে সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে ফাহিমকে ভিডিও কল করে। ফাহিম বনমালী ইন্সটিটিউটের সামনে দাঁড়িয়ে গল্প করছে। পাবনার মানুষ একটা যৌথ পরিবারের মত। মুরব্বি জিজ্ঞেস করেন, ‘ফাহিম কেমন আছো বাবা? ইদে আইছো খুশি হইছি; ইদগাহে দেখা হবিনি। বাড়িত আইসো; চাচী আম্মা তো রাঁধতে পারে না; তাও সিমাই খায়া যাইয়ো।‘

ফাহিম মাঈশার কল কেটে দেয়। চাচার সঙ্গে একটু গল্প করে বনমালী ইন্সটিটিউটের ভেতরের বাগানে গিয়ে কল ব্যাক করে। মাঈশা বলে, ‘উই হ্যাভ পেইন্টেড দ্য সিটি রেনবো! হোয়াটস আপ!’

ফাহিম জিজ্ঞেস করে, ‘ভালোই হলো, তোমরা দুই বান্ধবী রেইনবো জুটি হয়েছো। মিডল এইজ ক্রাইসিসের নিরসন হলো।‘

মাইশার পট করে একটু রাগ হলেও সামলে নিয়ে বলে, ‘আমরা আপনার মতো করাপ্ট মাইন্ড নিয়ে ঘুরি না। পাবনায় কী দেখা হলো প্রথম প্রেমের সঙ্গে; সেই যে মৌসুমী আপা? তিনি কোথায়?’

: আমি মাঈশা পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গেই বেশিরভাগ সময় কাটাই। তুমি আমার একটা প্লেবয় ইমেজ দাঁড় করাতে চেষ্টা করো সবসময়। কিন্তু লোকজন এই ন্যারেটিভ বাই করে না।

সচিব স্যারের ফোন এলে মাঈশার কাছে বিদায় নেয় ফাহিম। সচিব স্যার বলেন, ‘ফাহিম আমি ফাইল নিয়ে বসেছিলাম। দুঃস্থদের সাহায্য ঠিকমতো তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে; নাকি স্কাউন্ড্রেলদের পকেটে যাচ্ছে; আমি নিশ্চিত না!’

: স্যার চোরের খনির মনস্তত্ব তো এমনই। আমি ভাবছি, জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যারা সারাক্ষণ দেশপ্রেমের কথা বলে, আর অফিসার-সেকশান অফিসারের মধ্যে যারা সারাক্ষণ ধর্মপ্রেমের গল্প শোনায়; তাদের স্ত্রী-সন্তানদের অ্যাকাউন্ট রেইড করবো। মুজিব কোট-দাড়ি-টুপি; এই সততার কস্টিউমগুলোই চোরের খনির চাটার দলের বিশেষ পছন্দ।

সচিব সাহেব প্রাণখুলে হেসে বলেন, ‘এনজয় ইওর ইদ হলিডে। তোমার মা’কে আমার সালাম দিও ফাহিম। ইদ মুবারাক।‘

পাবনার লক্ষী আর প্যারাডাইস মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বসে প্ল্যান করে প্যাড়া ও রসকদম্ব সাঁটানোর উদ্দেশ্যে ফাহিম সেদিকে রওনা হয়। স্কুলের বন্ধু জনি হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এসে খবর দেয়, ‘ইদের পরের দিন তাদের ব্যাচের ছেলে-মেয়েদের রিইউনিয়ন।‘

: আগে রসকদম্ব তারপর তোর রসের রিইউনিয়নের গল্প। বান্ধবীদের সঙ্গে খুব হিরো হীরালাল সাজি সেলফি তুলতিছাওরে ভেড়াচো! 

: ফাহিম ছি ছি আশেপাশে খেয়াল কর! আমি তো এ শহরে একজন শিক্ষক; ছাত্র-ছাত্রী সব জায়গায়।

: তোর কাছে বাপ-মা মেয়ে পড়তে পাঠায়রে শালা; জানে না তো তুই যে ছিলি আমাদের বিকল্প বায়োলজি টিচার!

: ওরে ভেড়াচো আমার তিন কন্যা। এখন পরহেজগার মানুষ আমি।

: আল্লা কিন্তু বেছে বেছে ইভটিজারদেরকেই মেয়ের বাবা করে।

: ওরে ভেড়াচো; নিজের ছেলি হইছে বুলি খুব রসদাচ্ছো!

বাড়িতে ঢোকার আগে বাইরে থেকে তাকিয়ে; বার বার একে ফ্রিদা কাহোলোর বাড়ির মতো লাগে। লাতিন এমেরিকার মতো দোতলা কচি কলাপাতা রং-এর বাড়ি। বাবার স্বপ্নের বাড়ি; মা তাই এর যত্ন করেন; আগলে রাখেন। বাবা মারা যাবার পর মাকে ঢাকাতে নেয়াই যায় না। একাত্তরে পালিয়ে গেলে বাড়ি লুট হয়েছিলো। যুদ্ধের পর সেই জিরো থেকে জীবন শুরু করার ট্রমায়; এ বাড়ি পাহারা দেন মা। অবশ্য সারাজীবন পাড়ার মানুষের সঙ্গে যৌথ পরিবারের মতো বেঁচেছেন। ফলে স্বজনের অভাব নেই তার।

পাবনার বাড়ির ছবি সিনথিয়াকে হোয়াটস অ্যাপ করেছিলো। মাঈশা সে ছবি দেখে ফাহিমকে লিখেছে, ‘স্বপ্নের বাড়ি; আই উইশ আই কুড লিভ দেয়ার ফর এভার!’

মা নিজের শরীরের দুর্বলতা অতিক্রম করে টেবিল ভরা খাবার সাজিয়েছেন। বাবা বলতেন, ‘এ বাড়িতে তুমি তিনবেলা খাবার টেবিলটা যেমন পাও; সারাজীবন তোমার খাবার টেবিল এমন রাখতে পারলে বুঝবে; জীবনে ফল করোনি। লাইফ স্টাইল মেইনটেইন করতে পেরেছো। ঢাকার বাসার টেবিলে, পিটজা-পাস্তা-স্যালাড থাকায় সেই স্ট্যান্ডার্ড মাপতে অসুবিধা হয়। মনে হয় যেন লাইফ স্টাইল ফল করেছে।‘

অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিতে ইদ পুনর্মিলনি হয়। জনি চার্লি চ্যাপলিনের মতো দিকবিদিক ছুটছে। ব্যাচমেটদের দেখে ফাহিমের ভেতরে একটা হালকা দীর্ঘশ্বাস আসে। আমরা প্রাক বৃদ্ধ হয়ে গেছি। আবার নিজেকে সান্ত্বনা দেয়, এভরি এইজ হ্যাজ ইটস ঔন চার্ম।

মৌসুমী আপাও এসেছেন খবর পেয়ে; সেই বেণী দুলানো মৌসুমী আপা যে উচ্চাঙ্গ নৃত্যে গোল্ড মেডেল পেয়েছিলো। নাচের পর যার চিবুকের তিলে পাশে; নাক ছাবির মতো ঘাম চিক চিক করতো। মৌসুমী আপা রিক্সা করে গেলে মনে হতো, সুচিত্রা সেন পেখম মেলে ফিরেছেন তা পাবনা শহরে।

রিইউনিয়ন একটা নেভারএন্ডিং ব্যাপার। মৌসুমী আপার গাড়িতে অনুকূল চন্দ্র ঠাকুরের আশ্রম, পাবনা মানসিক হাসপাতাল, বেঁচে থাকার ইচ্ছে মরে যাওয়া ইছামতী নদী, ল'কলেজে কিশোর কুঁড়ির মেলার ঘেলাঘর দেখে; রুপকথা সিনেমার সামনে দাঁড়িয়ে ফাহিম বলে, ‘মৌসুমী আপা, এ শহরে আমাদের জীবন ছিলো রুপকথার মতো!’

হঠাত মাঈশার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ‘আপনার রিইউনিয়নের ফটোতে দেখলাম রেখা আপা; আইমিন মৌসুমী আপা এসেছেন! আপনার তো ইদুল মৌসুমী হয়ে গেলো।‘

ফাহিম লেখে, ‘তোমরা বুর্জ এ খলিফার সঙ্গে ছবি তোলো; আমি ছবি তুলি সুচিত্রা মিনারের সঙ্গে; এতো হিংসা করো কেন মাঈশা?’

৪৮৮ পঠিত ... ১৫:৫১, মে ০২, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top