হুমায়ূন আহমেদের অপ্রকাশিত রচনা

৫০৮ পঠিত ... ১৯:২৭, জুলাই ১৯, ২০২০

K M Rakibসাহিত্য বিষয়ে গবেষণা করতে গিয়া আমার একবার হাত পুড়ে গেছিলো। তখন থেকেই আমি বিদগ্ধ গবেষক। 

আর একজন বিদগ্ধ সাহিত্য গবেষক হিসেবে আমি জানি, হুমায়ূন আহমেদ স্যারের অনেক রচনা এখনও লোকচক্ষুর অন্তরালে অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।  

গত বছর পেঁয়াজ ইস্যুর সময় স্যারের একটা রচনার অংশবিশেষ আমি আবিষ্কার করছিলাম। দূর্বল স্মৃতির লোকদেরকে মনে করায়ে দিতে সেইটা আরেকবার শেয়ার করি:     

'আমি পেঁয়াজ কাটছিলাম। ও পাশেই ছিলো। হঠাৎ অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, ওর চোখে অশ্রু টলমল করছে। আমি সংশয়ে পড়ে গেলাম। এই অশ্রুসজল নয়ন কি পেয়াজের ঝাঁজের কারণে নাকি এতগুলো টাকার পেয়াজ কাটছি সে কারণে? কে জানে! প্রকৃতি বড়ই রহস্যময়।'      

[ তথ্যসূত্র: চক্ষে আমার পেঁয়াজ | হুমায়ূন আহমেদ স্যার ]  

এইটা ছিলো আসলে টিপ অফ দি আইসবার্গ। আরও কত শত লেখা বা লেখার অংশবিশেষ যে রয়া গেছে কে জানে!  বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকুই বা আমরা জানি। 

অনেকে আমারে বলছে, কি সব খুঁজো, মিয়া! হুমায়ূন স্যার সোনার ডিম পাড়া হাঁস, তোমার অপ্রকাশিত লেখা খুঁজে পাওয়ার কোনো চান্স নাই। 

তবে আমি হাল ছাড়ি নাই। আমি সুলাইমান সুখন ভাইয়ার মোটিভেশন ভিডিও দেখি, নিয়মিত ডন সামদামি ভাইয়াকে ফলো করি, আয়মান ভাইয়ার মোটিভেশনাল লেকচার একটাও মিস দিই না। তাই আমি জানতাম লেগে থাকলে আমি পারবো। আই ক্যান উইন। আই নিউ ইট। এন' ইউ নো ওয়ট? কিছুদিন আগে আমি ঠিকই এক রত্মভাণ্ডার আবিষ্কার করছি! 

নুহাশপল্লীতে গবেষণার কাজে গেছিলাম। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, আমি 'হুমায়ূন সাহিত্যে দাঁড়ি-কমার ব্যবহার: উত্তর-ঔপনিবেশিক ও উত্তরাধুনিক পাঠ' নামে আমার পিএইচডি থিসিসের কাজ করতেছি। এক্ষেত্রে মেহের আফরোজ শাওন ম্যামকে ধন্যবাদ না দিলেই নয়। তিনি গভীর মমতায় হুমায়ুন স্যারের রিডিং ও লেখার রুম, কাগজপত্রসহ লেখালেখি সম্পর্কিত সবকিছু আমারে দেখতে দিছেন। 

এই নুহাশপল্লীতেই  হুমায়ূন স্যারের দু'দুটি নোটবুক আবিষ্কার করি। 

তারপর থেকে হুলুস্থুল কাণ্ড! এই প্রকাশনী গাড়ির চাবি নিয়া আসে তো, ওই প্রকাশনী ব্রিফকেস ভর্তি টাকা নিয়া আমার পিছেপিছে ঘুরে। তারা আমার সম্পাদনায় এই অপ্রকাশিত রচনাগুলো নিয়া বই প্রকাশ করতে চায়।

পণ্যপ্রকাশ-এর স্বত্বাধিকারী আজহারুল ইসলাম সজ্জন ব্যক্তি। কারণ তার প্রস্তাবিত এডভান্সড চেকটাই সবচাইতে বড় ছিলো। তাই শেষপর্যন্ত দেশের স্বনামধন্য প্রকাশনী পণ্যপ্রকাশে বইটা দেয়ার ব্যাপারে মনস্থ করছি। 

তো, কী কী আছে এই নোটবুক দুটিতে? 

এককথায় আছে মণিমানিক্য। আছে অনেক লেখার নোট, বই ও চরিত্রের নাম, উক্তি, বিচ্ছিন্ন বাক্য। আছে  কয়েকটা  গল্প বা উপন্যাসের অংশবিশেষ। আছে সেই গল্প বা উপন্যাসের ব্যাপারে স্যারের ভূমিকা, উৎসর্গপত্রসহ কতকিছু! পুরোটা জানতে পণ্যপ্রকাশ- থেকে আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত আমার বইটা কিনুন। এইখানে কিছু নমুনা দিই।

স্যারের স্বভাবসুলভ অনেক বাক্য আছে নোটবুকে। যেমন: 

১.

'পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ ভাই আছে, কিন্তু একজনও খারাপ সহমত ভাই নেই।’ 

২ 

হিমুরা কখনও কারও মেসেজ সিন করে না' [ 'ডিজিটাল হিমু' নামের একটি অসমাপ্ত গল্পের প্রথম বাক্য ] 

৩.

দুনিয়ায় নানান ধরনের ব্যাধি আছে। তার একটা হলো ফেসবুকে লাইক পাওয়ার ব্যাধি। ঘন্টার পর ঘন্টা ফালতু সময় ব্যয় করে লাইক পাওয়ার ব্যাধি। এটা ভালো না।  [ঐ] 

৪.

ঈশ্বর মানুষ কে প্রচুর ক্ষমতা দিয়েছেন, কিন্তু ফেসবুকের এ্যাডমিনদের বুঝবার ক্ষমতা দেন নি। [ঐ] 

স্যারের নোটবুক ঘাঁটতে গিয়া খুব মন খারাপ হইলো। কারণ দেখলাম স্যার একটা রোম্যান্টিক প্রেমের  উপন্যাস লিখতে চাইছিলেন। অথচ কর্কটরোগে অকালে অন্যভূবনে চলে গেলেন বলে কাজটা শেষ করে যাইতে পারেন নাই। বড়ই আফসোস। উপন্যাসটির নাম: তুমি আমায় ডেকে ছিলে গুটির নিমন্ত্রণে।  

নোটবুকে আরেকটা উপন্যাসের প্রথম তিনটা অধ্যায় আছে। নামটাও মা্শাল্লাহ সুন্দর: ফুটন্ত পুলিশ। গোটাগোটা অক্ষরে ছোট্ট ১টা ভুমিকা আছে। 

স্যার সেই ভূমিকায় লিখছেন: 

হলুদ হিমু কালো র‍্যাব বইটি  প্রকাশিত ২০০৬ সালে। কিছুদিন পর এক তরুনী  নুহাশপল্লীতে এসে হাজির। বললো, স্যার আপনি র‍্যাব ভাইদের নিয়ে একটা বই লিখলেন। আমাদেরকে নিয়েও একটা বই লেখেন। মেয়েটি জানালো সে একজন পুলিশ। আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, তরুনীর চেহারায় কোনো 'ঘুষ খাই ঘুষ খাই' ভাব  নেই। দেখতে সুন্দরী। ছিপছিপে গড়ন। গাত্রবর্ণ উজ্জ্বল শ্যামলা। চোখ দুটো মায়াময়৷ গভীর মায়াময়। আমি এই গভীর মায়াময়ীর চোখের দিকে তাকিয়ে 'না' বলতে পারলাম না। সর্বশক্তিমান আমাকে সেই ক্ষমতা দেন নি। আমি তাকে কথা দিলাম পুলিশদের নিয়ে একটি বই লিখবো। সে রাতেই আমি 'ফুটন্ত পুলিশ' উপন্যাসটির প্রথম অধ্যায় লিখে ফেলি। 

আমাদের প্রিয় গল্পের জাদুকর হুমায়ূন স্যার যদি আর কিছুদিন বেঁচে থাকতেন! কতই  না ভালো হইতো। আরও কত মন্ত্রমুগ্ধ করা লেখা লিখতে পারতেন! অন্তত এই অসমাপ্ত লেখাগুলা শেষ করতে পারতেন। 

এটা ভেবে ভীষণ মন খারাপ হলো। ওপারে ভালো থাকুন স্যার। খুব খুব খুব ভালো থাকুন প্রিয় স্যার।   

প্রিয় পাঠক, স্যারকে ভালোবাসলে আপনিও  কিন্তু একটি কাজ করতে পারেন। আজকে স্যারের মৃত্যুদিন উপলক্ষে ৩৫% ছাড়ে (অথবা স্যারে) প্রি-অর্ডার নেয়া হচ্ছে। আমার নাম্বারে বিকাশ করে 'অপ্রকাশিত হুমায়ূন'  [কে এম রাকিব সম্পাদিত] বইটার প্রি-অর্ডার করতে পারেন। 

৫০৮ পঠিত ... ১৯:২৭, জুলাই ১৯, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top