রেস্টুরেন্টে মোগলাই অর্ডার দেয়ার বাদশাহী টেকনিক

৬৩৪ পঠিত ... ১৪:৫৭, মার্চ ২৮, ২০২০

হোটেলে ঢুকেই আপনি বাদশাহী গলায় হাঁক দেবেন, 'মোগলাই চাই! মোগলাই!!'

টুপি পরা ওয়েটার প্রথমেই এসে জহুরীর চোখে আপনাকে মেপে নেবে। তারপর খুলে ধরবে তার হরেক রকমের মোগলাইয়ের পসরা। সিঙ্গেল ডিমের মোগলাই। ডাবল ডিমের মোগলাই। শিক কাবাব দেয়া মোগলাই। গ্রিলড চিকেন দেয়া মোগলাই।

আপনার যদি খাস্তা পাতলা ধরনের মোগলাই খেতে মন চায়, সিঙ্গেল ডিমেরটাই ভালো। একটু পুরুষ্টু, ফোলা-ফোলা খেতে চাইলে ডাবল ডিম।

কিন্তু যদি ফিউশন চান, আপনাকে ফিরে চাইতে হবে কাবাব সেকশনে! তাতে ক্যাঁচক্যাঁচে সোয়াদের জন্য শিক কাবাব নেয়া যায়! আর ঝাঁজালো মুরগীর জন্য গ্রিলড চিকেন!

আপনি গম্ভীর গলায় ওয়েটারকে বুঝিয়ে বলবেন ডবল ডিমের ফোলাফোলা মোগলাইটাই চাই। ওতে কাঁচামরিচ-পেঁয়াজের কুঁচিটা একটু বেশি পরিমাণে হবে। আর শেষটায় মিশিয়ে দেয়া হবে একটা কোয়ার্টার গ্রিল কুচি কুচি করে!

চলে গেলো অর্ডার। দোকা থাকলে তার সাথে রাজা-উজির মারতে মারতেই চলে যাবে বেলা। একা থাকলে আশপাশ লক্ষ্য করুন। পাশেই কেউ হয়তো খুব আদবের সাথে হালিম খেয়ে যাচ্ছেন। আলতো করে রুটির গোঁত্তা দিয়ে, মেলামাইনের চামচে নেড়ে নেড়ে। কেউবা কাসুন্দীতে ডুবিয়ে পুরি ভরছেন গলায়। কেউ আবার গলা উঁচিয়ে ঝগড়া করতে করতে সুড়ুৎ সুড়ুৎ চা ঢালছেন পিরিচে নিয়ে!

এইতো... বিজবিজ শব্দ করে প্লেটে নাচতে নাচতে চলে এসেছে আপনার মোগলাই! কিসের মোগলাই?? স্বাদে, গন্ধে, বর্ণে সেটা খোলতাই পিজ্জার রূপ ধারণ করেছে! আস্ত মোগলাইটা নয় টুকরো করে কাটা। তাতে ভেতর থেকে ফুলে-ফেটে বেরিয়ে আসছে মরিচের সবুজ, পেঁয়াজের সাদা, ডিমের কড়া হলুদ, আর মাংসের কালচে বাদামী! সাথে মাংস খাবার সস। কাসুন্দীতে ডোবানো সালাদ। পেঁয়াজ-মরিচের ঘ্যাঁট!

আপনি এক টুকরো কাঁটাচামচে নিয়ে ভিড়মি খেলেন। এই জিনিস কাঁটাচামচে টুক করে তুলে ফেলার জিনিস না। ভেতরের মাল-মশলা তাতে ছিটকে পড়বে! রীতিমতো তাজিম করে নিচে একটা চামচ ধরতে হয়, আর উপরে কাঁটাচামচের ঠেক!

দিলেন মুখে। প্রথমেই তালুতে ঠেকবে ক্রিসপনেস। তারপর পেঁয়াজ-মরিচের ধাক্কা। মাঝের অংশটায় সাঁতার কাটবেন ভাজা ডিমের মূর্ছনায়। এরপর... এরপর দু'চোয়াল যখন একসাথে হবে, তখনই জিভ আর তালুর যুগলবন্দীতে সাক্ষাৎ ঘটবে পোড়া পোড়া ঝাঁজালো গ্রিলড চিকেনের। আপনার নাসারন্ধ্র তখন দমকে দমকে উঠছে কাসুন্দীর শর্ট-সার্কিটে। জিভ আচ্ছ্বন্ন মাংসের ঝাল সসে। আর সমস্ত মুখ তখন শশব্যস্ত উপচে পড়া সুখটাকে সামাল দিতে!

পরবর্তী কামড়ে যাবার আগে আরেকটু কাসুন্দি-টাসুন্দি দিয়ে মুখটাকে সামাল দিয়ে নিতে হয়। উদাস মুখে চিবোতে পারেন একটু সালাদ, যেমন ব্যঘ্র শাবক শিকারে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে হাই তুলে শরীরের আড়মোড়া ভেঙে নেয়! তারপর আবার... তারপর আবার...

এই জিনিস ঠিক সান্ধ্যকালীন নাস্তা-পানি না। পুরোদস্তুর ভারি খাদ্য। শেষ টুকরোটা মুখে পুরতেই ঠকাশ করে কী যেন শব্দ! আপনি তাকিয়ে দেখেন, চা। সফেদ পেয়ালায় তাতে লালচে মালাই ঘুরে ঘুরে নৃত্য করছে!

দেশ-জাতি-বিশ্ব-সংসার নিয়ে আশা-নিরাশার দোলাচল বহু হয়েছে। এখন মনে হয়, বেঁচে যে আছি এখনও- সেই তো ঢের!

প্রতি মুহূর্ত বেঁচে থাকাটাই সুখ, সেই সুখের অন্বেষনে গ্রিলড মুরগির মিশেল দেয়া মোগলাই না হয় জ্বালালোই সলতে!

কী আছে আর দুনিয়ায়...

৬৩৪ পঠিত ... ১৪:৫৭, মার্চ ২৮, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top