হুমায়ূন আহমেদের অপ্রকাশিত উপন্যাস 'চক্ষে আমার পেঁয়াজ'

২৪৭ পঠিত ... ২০:২৮, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

এলেবেলে, সায়েন্স ফিকশন থেকে শুরু করে কোয়ান্টাম রসায়ন পর্যন্ত বিচিত্রসব বিষয়ে লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ। ফলে পেয়াজ নিয়েও তিনি নিশ্চয়ই কিছু লিখবেন। সম্প্রতি তার কিছু বিচ্ছিন্ন গদ্য আবিষ্কৃত হইছে। পুরা গদ্য পাওয়া যায় নাই। কিন্তু ধারণা করা যায় পেয়াজ বিষয়ক উপন্যাসের একটি অংশ। গদ্যের এক জায়গায় ‘চক্ষে আমার পেঁয়াজ’ নামটাও পাওয়া গেছে। সদ্য আবিষ্কৃত সেই গদ্যের কিছু চুম্বক অংশ এখানে দেয়া হলো।   



১.

'আমি পেয়াজ কাটছিলাম। ও পাশেই ছিলো। হঠাৎ অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, ওর চোখে অশ্রু টলমল করছে। আমি সংশয়ে পড়ে গেলাম। এই অশ্রুসজল নয়ন কি পেয়াজের ঝাঁঝের কারণে নাকি এতগুলো টাকার পেয়াজ কাটছি সে কারণে?

কে জানে! প্রকৃতি বড়ই রহস্যময়।'

 

২.
হামিদ সাহেব এই মুহূর্তে কাঁচাবাজারে। ইদানিং কাঁচাবাজারে গেলেই তার প্রেশার বেড়ে যায়। মেজাজ চড়ে যায়। মেজাজ চড়ে গেলে তিনি ভুলভাল ইংরেজি বলতে থাকেন। 
হামিদ সাহেব পেঁয়াজ বিক্রেতার দিকে আড়চোখে তাকালেন। বললেন, ‘এই তোমার নাম কী? Your name?’
বিক্রেতা বললো, ‘আব্দুল হামেদ, ছার।’ 
হামিদ সাহেবের মৃদু অস্বস্তি হলো। তার নিজের নামে নাম বলেই কি? কে জানে! জগতের রহস্যময়তার ব্যাপারে কে ই বা কতটুকু জানে।
আবার তাকিয়ে দেখলেন আব্দুল হামেদের গাত্রবর্ণ গৌঢ়। বয়স ২৫-এর আশেপাশে। সে পরে আছে ঢোলা একটা শার্ট। একটু বেশিই ঢোলা। শার্টের রঙ গাঢ় লাল। 

সে বললো, ‘ইয়োর অনিয়ন গুড? তোমার পেয়াজ কি ভাল?’
‘দেইখা কেমন বুঝতেছেন ছার?’

হামিদ সাহেবের মনে হলো, ‘পেয়াজের রূপ সময়নির্ভর। একেক সময় একেক রকম লাগে। সাধারণত পেয়াজের রঙ হয় মেরুন কালার। এই পেয়াজের গাত্রবর্ণও মেরুন। তবে এই মুহূর্তে রোদ পড়েছে বলে রূপের স্কেলে এই পেঁয়াজকে তিনি দেবেন দশের মধ্যে ছয়। অন্য সময় হলে এই পেঁয়াজ দশে আট পেতে পারতো।

‘আমাকে ২০ গ্রাম পেয়াজ দাও।’
হামেদ মিয়া হা করে তাকিয়ে থাকলো। তার মুখের হা বেশ বড়। অনায়াসে কয়েকটা মাছিও ঢুকে পড়তে পারে। 

‘কী বললাম, ২০ গ্রাম পেয়াজ। অনলি টুয়েন্টি গ্রামস।’ 

‘ছার বিশ গ্রাম মাপার মেশিন তো নাই। অন্তত আধাকেজি নেন।’
‘আমি কি টাকার ক্রোকোডাইল? …’

[এরপর কয়েক লাইন খুব অস্পষ্ট। হুমায়ূন আহমেদের হাতের লেখা সুবিধার না হওয়ায় গেসও করা যায় না। গদ্য এক কথায় হিজিবিজি হিজিবিজি।]  



৩.

নীরু ড্রয়িং রুমে সোফা কাছে বসে ছিলো। তার পুরো নাম নিরুপমা। বাবা নীরু বলে ডাকে। বাবা সোফায় বসে আছেন। নীরু দাড়িয়ে আছে নতমস্তকে। কারণ এখন চলছে তাকে বিচারসভা। বাবা আব্দুল হামেদ খুব রেগে আছেন।   

নীরু!
জ্বি বাবা। 
তুমি যে অতি বড় একটি অন্যায় করেছো তা কি বুঝতে পারছো? You did a very big crime. Do you understand? 

হামিদ সাহেবের মেজাজ খুব দ্রুত চড়ে যায়। রেগে গেলে তিনি ভুলভাল ইংরেজি বলতে শুরু করেন। এবং তুই থেকে সম্বোধনে তুমিতে চলে যান। 

নীরু চুপ করে রইলো।

তুমি কি আমার কথা বুঝতে পারছো? Tell me. Yes or no? 

নীরু কোনো কথা বললো না। 

তুমি সিঙাড়ার সাথে পেঁয়াজ কেন খেয়েছো? তুমি জানো না পেয়াজের দাম কেমন? প্রয়োজনে সিঙাড়ার সাথে বিটনুন খাও। তাছাড়া বিটনুনে রয়েছে খনিজ উপাদান। এর পুষ্টি গুণাগুন খুব ভালো। কিন্তু পেঁয়াজ কেন? হোয়াই অনিয়ন? হোয়াই? 

২৪৭ পঠিত ... ২০:২৮, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top