স্বামী লালন-পালনে দরকারী কিছু টেকনিক

১১১৪ পঠিত ... ১৩:২৮, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

 

সু-স্বামী গড়িয়া তুলিতে হইলে, শিশুদের মতোই স্বামীর দিকে নজর রাখিতে হইবে, দৈনন্দিন পরিচর্যার ব্যবস্থা করিবে।

সকালে স্বামী ব্রাশ দিয়া দাঁত মাজিয়াছে কিনা- দাঁত বাহির করিয়া দেখাইতে বলিবে।
বাসি কাপড় ছাড়িয়া কাচিয়াছে কিনা লক্ষ্য করিবে!

উঠ-বোস ( কান ধরিয়া করিলেই বা ক্ষতি কি?) ব্যায়াম করে কিনা দেখিবে।

ভালো করিয়া মাথায় তেল ও গায়ে সাবান মাখিয়া স্নান করে যেন। বুঝাইয়া দিবে, উহাতে রোমকুপগুলি পরিস্কার হয়।  গায়ে ছাগলের বোটকা গন্ধ হয় না।

স্নান করিবার সময় স্নানঘরে গাধার মতো বেসুরো গান করিলে বাহির হইতে ভাঙা কেনেস্তার টিন বাজাইতে পারো।

ক্ষুধা না হইলে স্বামীকে উপবাসে রাখিবে। তাহাতে ক্ষুধা বৃদ্ধি হয়। বরং তাহার সামনে ভাল-মন্দ খাইলে ভাল ফল দেখা যাইতে পারে।

কিছু খাইয়া মাথায় হাত মোছে কিনা দেখিবে।

থুথু দিয়া বইয়ের পাতা উল্টাইলে বা খামে টিকিট লাগাইলে- গায়ে গোবরজল বা গঙ্গাজল ঢালিয়া দিবে।

জুতা পরিয়া ঘরে ঢুকিলে ঠ্যাং খোঁড়া করিয়া দিতে যাইও না। তাহাতে তোমারই ক্ষতি। বরং ঘর মুছাইয়া লইবে।

জোরে রেডিও চালাইলে তুমি হঠাৎ তাহার কানের কাছে গিয়া জোরে ‘কুউক’ শব্দ করিবে।

শোওয়া খারাপ হইলে স্বামীর পদদ্বয় ও হস্তদয় দড়ি দিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারো।

 

স্বামীরোগ ও তাহার প্রতিকার

কতকগুলি বিশেষ বিশেষ ‘স্বামী-রোগ’এর লক্ষণ, নাম ও ঔষধের নাম উল্লেখ করা যাইতেছে-

লক্ষণ: ঘরের যেখানে-সেখানে সিগ্রেটের ছাই ফেলা।
রোগের নাম: নোংরামি।
ঔষধ: সম্মার্জনী-সঞ্চালন।

লক্ষণ: হাতের কাছে জিনিস খুঁজিয়া না পাওয়া।
রোগের নাম: তালকানামি।
ঔষধ: চোখের ঠুলি ব্যবহার।

লক্ষণ: কিছু না পাইলে জিনিসপত্র ছোড়াছুঁড়ি।
রোগের নাম: মেজাজি।
ঔষধ: রোগীর জিনিসপত্রও ছোঁড়া।

লক্ষণ: যখন-তখন রসিকতা করিতে যাওয়া।
রোগের নাম: ভাঁড়ামি।
ঔষধ: ঝাঁটা ( পূর্বোক্তরূপ)

লক্ষণ: কিছু আনিতে বলিলে ভুলিয়া যাওয়া।
রোগের নাম: স্মৃতিশক্তিহীনতা।

ঔষধ: উপবাস।


লক্ষণ: একটি কাজ করিতে গেলে অপকর্ম করা।
রোগের নাম: খোকামি।
ঔষধ: দুই হাতে ইট দিয়া পা ফাক করিয়া দাঁড় করাইয়া দেওয়া।

লক্ষণ: বন্ধুর সঙ্গে অশ্লীল কথা বলা।
রোগের নাম: ফাজলামি।
ঔষধ: পশ্চাদ্দেশে বেত্রাঘাত।

লক্ষণ: অনেক রাত্রে জুতা হাতে করিয়া পা টিপিয়া টিপিয়া ঘরে ঢোকা।
রোগের নাম: চোরামি।
ঔষধ: উক্ত বেত্রাঘাত (অবশ্য বেত পূর্বে ব্যবহারের পরও যদি ভালো অবস্থায় থাকে।)

লক্ষণ: জীবন আমার বৃথাই গেল-ভাবা।
রোগের নাম: হা-হুতাশ।
ঔষধ: চুম্বন টনিক।

লক্ষণ: অল্প বয়সী ঝির কাছে ঘনঘন জল চাওয়া।
রোগের: নাম হার্ট ডিজিজ।
ঔষধ: মাথা নেড়া করিয়া ঘোল ঢালা।

আমাদের ঠাকুমা-দিদিমার কালেও যে এই সব রোগ ছিল না- তাহা নহে। তবে সেসব রোগের এই সব আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ঔষধের ব্যবহার তাহারা জানিতেন না। তাহারা প্রায় নিজেদের টোটকা ঔষধ ব্যবহার করিতেন। যথা- অভিমান, কথা বন্ধ, নথনাড়া, পিছন ফিরিয়া শোয়া, নাকে কান্না, বাবা-মাকে নালিশ, বাপের বাড়ি চলিয়া যাওয়া ইত্যাদি। এখন আধুনিক যুগে প্রয়োজন আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা।

[ কুমারেশ ঘোষের ‘স্বামীপালন পদ্ধতি’ থেকে। ]

১১১৪ পঠিত ... ১৩:২৮, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top