পর্ন দেখতে গিয়ে যে বিপদগুলোতে পড়েছি

৭১৪ পঠিত ... ২০:০৬, আগস্ট ২২, ২০১৯

বিপদ ১

প্রথমটাতে আমার কোন দোষ নেই। ঘটনাটা শুনলেই বুঝবেন।

বছর দেড়েক আগের কথা। একটা এফএম রেডিও চ্যানেলে (বিশেষ কারণে নাম বলছি না) রাতে একটা হাসির শো হতো। বেশ জনপ্রিয় শো। রাত বারোটায় শুরু হয়ে চলতো দুটা পর্যন্ত।
আমার এক চাচা আছেন। তিনি রেডিও ফেডিও শোনেন না। আমি রাত ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত পড়ালেখা ছেড়ে রেডিও শুনি বলে তিনি আমার উপর কিঞ্চিত ক্ষ্যাপা। তাকে আমি অনেক বলে কয়ে রাজি করালাম একটা শো শোনার জন্য। বললাম, 'একটা শো অন্তত শুনো। তোমার ধারণা পাল্টে যাবে। শো-টা আসলেই বেশ মজার। এত মজা যে একবার শোনা শুরু করলে আর রেডিও অফ করা যায় না।' তিনি আমার ঘ্যানঘ্যানানি শুনে বললেন, 'আচ্ছা যা আজ শুনবো'।

ঐদিন রাত ১২টা বাজলো। আমি রেডিও অন করলাম। কিছুক্ষণ পর শো শুরু হলো। আমার চাচাও তার রুমে শো শুনছেন।
যথারীতি মজার অনুষ্ঠান। আমি শুনছি আর হাসছি।

হঠাৎ ঘটনা বদলে গেলো। আরজের কথা থেমে গিয়ে শুরু হলো অন্যরকম আওয়াজ। আমি ভালোভাবে শোনার চেষ্টা করলাম। শুনে আমার আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলো। এত দেখি সেই জিনিষের শব্দ। সেই জিনিস মানে, পর্ন মুভি!

পর্ন মুভিতে কিরকম শব্দ থাকে এটা সম্পর্কে নিশ্চয়ই সবার ধারণা আছে। 'আউ, হাউ, ইয়া, ও গড' টাইপ শব্দ চলছে। আমি বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনছি। হার্টবিট বেড়ে গেছে ১০ গুন। ভেবেই পেলাম না রেডিওতে এরকম হচ্ছে কেন!

প্রায় আধা ঘন্টা চললো 'মুভি'। তারপর বন্ধ হলো।

আমি সাথে সাথে কম্পিউটার অন করলাম। তখন নতুন ব্লগার হয়েছি। মনে সুপ্ত হিট আকাংক্ষা। যা দেখি সেটাই ব্লগে দিতে ইচ্ছে করে। আর এটা ব্লগে না দিলে কিভাবে? রীতিমতো ঐতিহাসিক ঘটনা।

আমি ব্লগে তড়িঘড়ি করে পোস্ট দিলাম 'রেডিও ****তে এতক্ষণ চললো পর্ন মুভি'।

আমি ভেবেছিলাম আমার এই অনুসন্ধানী পোস্টে এসে সবাই বাহবা দিবে। কিন্তু ও হরি! সবাই এসে ধুমিয়ে গালাগালি শুরু করে দিলো। অনেকেই সেদিন শো শুনেছিলো। তারা তো 'মুভি' শোনেনি।

আসলে ব্যাপারটা ছিল অন্যরকম। ঐদিন ঘটেছিলো ফ্রিকোয়েন্সি হ্যাকিং টাইপ কিছু একটা। হ্যাকাররা হ্যাক করেছিলো সিলেটের ফ্রিকোয়েন্সি। যার ফলে ঢাকার শ্রোতারা ঐ জিনিস কিছুই শুনতে পাননি। শুনেছে সিলেটের শ্রোতারা। ঢাকার ব্লগাররা ভেবেছে আমি ঠাট্টা করছি। যার ফলে গালাগালি করেছিলো। আসলে তারাও ছিলো সঠিক, আমিও ছিলাম সঠিক।

যাই হোক, তখন নতুন ব্লগার। গালাগালি সহ্য করতে পারছিলাম না। পোস্ট রিমুভ করে দিলাম।

পরদিন সকালে দেখা হলো আমার চাচার সাথে, যাকে বলেছিলাম সেই চমৎকার শো শোনার জন্য।
আমি চাচার চোখের দিকে তাকালাম না, তিনিও আমার দিকে তাকালেন না। আস্তে করে পরস্পরকে পাশ কাটিয়ে গেলাম। এরপর আমি তার সাথে রেডিও বিষয়ক কোন কথা বলিনি।


বিপদ ২

টিভির সামনে বসলেই আমি সাধারণত ডিস্কোভারি চালিয়ে বসে থাকি। ডিস্কোভারির প্রোগ্রামগুলো আমার কাছে দারুণ লাগে।

কিছুদিন আগের কথা। দুপুরের দিকে ডিস্কোভারি দেখছি। একটা শো হচ্ছে 'I shouldn't be alive'.
দেখা যাচ্ছে একজন মেয়ে গাড়ি নিয়ে মরুভুমির মাঝখান দিয়ে যাচ্ছেন। মেয়ের বয়স ২২/২৩। মাঝখানে হঠাৎ এক্সিডেন্ট। তিনি ছিটকে গিয়ে পড়লেন রাস্তার একপাশে। ভেঙে গেলো পুরো পেলভিক বোন (কোমরের হাড়)। যার ফলে উঠে দাড়াতে পারছেন না। এই নির্জন মরুভুমিতে একা একা শুয়ে আছেন। পুরো ঘটনাটাই শ্যুট করা।

ব্যথা শুরু হলো মেয়ের কোমরে। মুখ দিয়ে শব্দ করা শুরু করলো মেয়ে। ইংরেজি প্রোগ্রাম বাংলায় ডাবিং করে শোনানো হচ্ছিলো। যার ফলে মেয়ের চিৎকারের শব্দও ডাবিং করা হয়েছে। ডাবিং করা চিৎকার শুনছিলাম। ভয়াবহ অবস্থা। অবিকল অন্য টাইপের শব্দ। অন্য টাইপ বলতে কি বুঝাচ্ছি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।
'ও মাই গড, আউ, হাউ' করছে মেয়ে। টিভি চলছিলো বেশ জোরে জোরেই।
শব্দ শুনে পাশের রুম থেকে ছুটে আসলেন আমার এক বড় ভাই। দরজায় টোকা দিলেন। ততক্ষণে ডিস্কোভারির ঐ শো শেষ। বড় ভাই এসে জিজ্ঞেস করলেন 'কী দেখিস?'
আমি বললাম 'কিছু না।'
খেয়াল করলাম তার চোখে সন্দেহ। তিনি ধরেই নিয়েছেন আমি 'উল্টাপাল্টা' কিছু দেখছিলাম। নাহলে তো এমন শব্দ হতো না।

আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম।

৭১৪ পঠিত ... ২০:০৬, আগস্ট ২২, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top