আন্ধাধুন সিনেমার শেষে কী বোঝানো হয়েছে? পড়ুন eআরকির 'আন্ধাধুন এন্ডিং এক্সপ্লেইনেশন'

১৪৯২ পঠিত ... ১৮:৫৫, জানুয়ারি ০২, ২০১৯

গতবছর সোশ্যাল মিডিয়ায় সেসব সিনেমা আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে, তার মধ্যে থ্রিলার 'আন্ধাধুন' অন্যতম। আয়ুশমান খুরানা, তাবু এবং রাধিকা আপ্তে অভিনীত এই সিনেমার শেষ দৃশ্য এবং রহস্যময় এন্ডিং নিয়ে অনলাইনে নানান আলোচনা হয়েছে। সিনেমার শেষে আসলে কী ঘটে, অনেকেই বুঝতে পারেননি। তাই সেই গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে eআরকি! চলুন বুঝতে চেষ্টা করি, আন্ধাধুন সিনেমার শেষ দৃশ্যের মানে কী!

আয়ুশমানের সাথে একটি রোড এক্সিডেন্টের মাধ্যমে রাধিকা আপ্তের পরিচয় হয়। পরে ঘটনা পরিক্রমায় প্রেম হয়ে যায় আয়ুশমান আর রাধিকা আপ্তের। কিন্তু দরিদ্র ও অন্ধ একজনকে জামাই হিসাবে মেনে নিতে রাজি হয়না রাধিকার বাবা হোটেল ব্যবসায়ী চৌধুরী সাহেব। তিনি শর্ত দেন, আয়ুস্মান যদি এক মাসের মধ্যে এক কোটি টাকা এনে দেখাতে পারে তাহলেই শুধুমাত্র তিনি মেয়েকে আয়ুস্মানের হাতে তুলে দেবেন।

আয়ুশমান জসিমের মত কয়দিন লটারি কেটে বড়লোক হওয়ার ট্রাই করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। সিনেমায় আমরা দেখতে পাই, এ কারণেই আয়ুশমানের সাথে লটারি বিক্রি করা মহিলার পরিচয় হয়। তারপর আয়ুশমান বিরল প্রজাতির খরগোশ ধরে বিক্রি করারও চেষ্টা করে এক শিকারির মাধ্যমে। কিন্তু সেটাও পারে না। কারণ খরগোশ খুব চালাক।

লটারি আর খরগোশ ব্যবসায় সুবিধা করতে না পেরে আয়ুশমান প্ল্যান করে নায়ক থেকে বিল্ডার বনে যাওয়া প্রমোদ সিনহার বাসায় ডাকাতি করবে। সেজন্য রাধিকা আপ্তে আর আয়ুশমান এক হয়ে বুদ্ধি বের করে। প্রমোদ সিনহা কবে বাসায় থাকবে না এটা রাধিকা সিস্টেম করে জেনে নেয়। তারপর ঐদিনই আয়ুশমান অন্ধ সেজে তার বাড়িতে গিয়ে মিথ্যা গল্প বলে যে প্রমোদ সিনহাই তাকে ইনভাইট করেছিলো। এসময় সে দেখতে পায়, প্রমোদ সিনহা অলরেডি মার্ডার হয়ে গেছে তাবুর বয়ফ্রেন্ড কর্তৃক। এদিকে পড়বি তো পড় পুলিশের ঘাড়েই, তাবুর বয়ফ্রেন্ড আর কেউ না বরং একজন পুলিশ অফিসার।

আয়ুশমান চিনতে পারে, এই লোকই ছোটবেলায় তার বাবাকে খুন করে তাকে আর তার মা কে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলো। আয়ুশমান প্রতিশোধ নিতে চায়। সে তখন ঐ লটারি বিক্রেতা আন্টির সাথে এক হয়ে আরেক প্ল্যান করে। সিএনজিওয়ালা আর ডাক্তারকে দলে নেয়ার জন্যই দুজন মিলে কিডনি বিক্রির নাটক সাজায়। তারপর তিনজন মিলে এক কোটি টাকা মেরে দিতে চায়। বাবার খুনি পুলিশকে লিফটে আটকে খুন করার আইডিয়াও ছিল আয়ুশমানের।

কিন্তু সিএনজিওয়ালা মারা যাওয়ায় আয়ুশমান আর টাকা হাতে পায় না। সে তখন তাবুকে আর ডাক্তারকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এমন সময় তার কাছে একটা ফোন আসে যে একটা বিরল প্রজাতির খরগোশ পাওয়া গেছে, যেটার দাম ২ কোটি টাকা... সে যেন তাড়াতাড়ি চলে আসে। কারণ শিকারি খরগোশটা একা মারতে পারছে না। সেজন্য সে ডাক্তারকে বলে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে। ডাক্তার তখন তাবুর হাতে খুন হয়। আর তাবু তাকে গাড়ি চালিয়ে ঠিক খরগোশ শিকারের জায়গাতেই নিয়ে আসে এবং গাড়ি চাপা দিয়ে মারতে চায়। এমন সময় খরগোশটা গাড়ির সামনে চলে
আসায় তাবু মারা যায়। আয়ুশমান বেঁচে যায়, কিন্তু খরগোশটাও মারা যায়।

আয়ুশমান খরগোশ বিক্রি করে ২ কোটি টাকা পায়। সেই টাকাটা পেয়ে সে ভাবে লন্ডন গেলে রাধিকা আপ্তের চাইতে অনেক ভালো মেয়ে পাওয়া যাবে। কারণ রাধিকা আপ্তে বেশি ফর্সা না আর ফিগারও তেমন ভালো না। এজন্য আয়ুশমান রাধিকা আপ্তেকে ধোঁকা দিয়ে লন্ডন চলে যায়।

পরে একদম লাস্টে রাধিকার সাথে আয়ুস্মানের আবারো এক্সিডেন্টলি দেখা হয়ে গেলে সে কফি অফার করে বলে, 'বহুত লম্বি কাহানি, কফি?' কিন্তু আয়ুশমান রাধিকাকে কি কাহানী শোনায়? সে আসলে গতকাল থিয়েটার থেকে দেখা রেস থ্রি সিনেমার কাহিনী শোনায় রাধিকা আপ্তেকে। রাধিকা সেই বোরিং কাহিনী শুনে বিরক্ত হয়ে চলে যেতে চায়। আয়ুস্মান তাকে বলে কাল আমার কনসার্ট আছে এসো, কনসার্ট শেষে থাগস অফ হিন্দুস্থানের প্লট শোনাবো।

এজন্য রাধিকা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বলে আমার প্লেন আছে। তবে আমি চেষ্টা করব। এটা ভদ্রতা করে বলে, আসলে সে আসে না।

খরগোশ বিক্রির টাকা দিয়ে যে আয়ুশমান বড়লোক হয় তার প্রমাণ হলো তার হাতের কাঠের লাঠিতে খোদাই করা খরগোশের মাথা

১৪৯২ পঠিত ... ১৮:৫৫, জানুয়ারি ০২, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top